বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খুন: সহপাঠীর মৃত্যুদণ্ড
২০১১ সালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটি অফ অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্টের (ইউডিএ) সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হাসানকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার সহপাঠী চৌধুরী মো. জুলকার নাইন ওরফে মনিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামি জুলকার নাইন হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জ থানার পশ্চিমবাগ গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শামীম হাসান ও জুলকার নাইন ইউডিএ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে পড়াশোনা করতো। তারা আদাবরে একই রুমে থাকতো। পরীক্ষার ফি জমা দিতে শামীমের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চায় জুলকার নাইন। তবে শামীম টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। টাকা না দেওয়ায় সে ক্ষোভ চেপে রাখে।
ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শামীমকে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে হোটেল এ্যারামে নিয়ে যায় জুলকার নাইন। নিজে মদ সেবন না করে শামীমকে করায়। মদ্যপ অবস্থায় তাকে জিয়া উদ্যানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে পরীক্ষার ফি'র জন্য শামীমকে ল্যাপটপ ও মোবাইল বিক্রি করবে জানিয়ে লকারের চাবি চায়, টাকা দিতে বলে।
জুলকার নাইন চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম গলায় ছুরিকাঘাত করে। চেহারা বিকৃত করতে মুখে ছুরিকাঘাত করে। পরদিন পুলিশ শামীমের লাশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় শামীমের চাচা শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরের বছরের ১৩ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে জুলকার নাইমকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক জহুরুল হুদা।
ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
