বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পর্যালোচনা করছে সরকার
দেশে স্বনামধন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে সরকার 'বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন' পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে যথাযথ একাডেমিক মান ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীতে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠককালে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। বৈঠকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, "সরকার বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের কাঠামো পর্যালোচনা করছে, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের আরও সুযোগ পাবে।"
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ে সহায়ক এমন অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশ ও কানাডার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই কানাডা শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে মানসম্মত শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং কানাডীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গভীর সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে। কানাডীয় প্রতিনিধিরা জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কানাডা ইতোমধ্যে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বাংলাদেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে কানাডার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি উভয় দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতামূলক প্রকল্প গড়ে তুলতে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
