সত্যি সংস্কার চাইলে গণভোটে 'হ্যাঁ' দিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা
গণভোটে অবশ্যই সবাইকে অংশ নিতে হবে উল্লেখ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদেরকে হ্যাঁ বলতে হবে।
রোববার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নাগরিক পদক-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই একই দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটা দেবেন সেটা হচ্ছে গণভোট। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার বাঁককে শাসকগোষ্ঠীর থেকে সরিয়ে জনগণের দিকে বাঁকানোর একটি সিদ্ধান্তের সময়। এই গণভোটে অবশ্যই সকলে অংশ নেবেন এবং যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদের হ্যাঁ বলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি হ্যাঁ-না বলে চুপ করে বসে থাকি, নিষ্ক্রিয় থাকি বা না বলি তাহলে ক্ষমতার যে ভারসাম্যটা আনার প্রয়োজন এই সমাজে সেই ভারসাম্যটা আনবার সুযোগটা আরো অনেক বছরের জন্য হয়তো আমরা হারিয়ে ফেলব।
কাজেই সংস্কারগুলোর প্রস্তাবনা নিজেরা পড়বেন বুঝবেন বলে জানান রিজওয়ানা। তিনি বলেন, এগুলোর ব্যাপারে কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অনেক প্রচারণা অনেক ব্যাখ্যামূলক নোট প্রস্তুত করে আপনাদেরকে দেওয়া হচ্ছে। গণভোটে সবাইকেই অংশ নিতে হবে এবং আপনার মতামত জানাতে হবে। যদি সংস্কার চান তাহলে গণভোটে যেতে হবে। সংস্কারের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে সংস্কারের যে প্রস্তাবনাগুলো আছে যদি সত্যি ক্ষমতার ভর শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের কাছে নিতে চান তাহলে সংস্কারের পক্ষে থাকবেন। আপনাদের আমাদের অনেক ভয়ভীতি দেখানো হবে যাতে নির্বাচনে আমরা না যাই। ভোটার যাতে ভীত হয় তার কিছু আলামত তো ইতোমধ্যেই আমরা পেয়েছি। এই ভয়কে জয় করেছিল বলেই কিন্তু জুলাই আগস্ট সফল হয়েছে। এর আগেও কিন্তু আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনগুলো চূড়ান্ত সফলতার মুখ দেখেনি তার কারণ হচ্ছে ভয়কে তারা জয় করতে পারে নাই। ভয়ের নানান রকম মাধ্যমে ভয় দেখানো অব্যাহত ছিল। এখনো কিন্তু ভয় দেখানো হচ্ছে। এই যে ভয় এই ভয়টাকে আমাদের জয় করতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু এবার দুটো ভোট দেব। একটা ভোট হচ্ছে আমি কোন প্রার্থীকে আমার সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই। সেখানে আপনারা আপনাদের বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে এমনভাবেই ভোট দেবেন যাতে আর পস্তাতে না হয়। আমরাই ভোট দিই। আমরাই আবার বলি নেতারা ভালো না। এটা হইতে পারবে না। আমরা ভালো নেতা দেখে যেন ভোট দেই।
নির্বাচনে তরুণ সমাজ ভোটের একটি বড় অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণ সমাজ যেভাবে আমাদেরকে স্বৈরতন্ত্রের স্বৈরাচারের কবল থেকে বের করে এনেছে, এই তরুণ সমাজকে সেভাবেই গণতন্ত্রের ভিত সংস্কারের মাধ্যমে শক্তভাবে প্রস্তুত করতে হবে। শুধু স্বৈরাচার চলে গেল তাতে খুশি হয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সফল হওয়ার সাথে সাথে দেশে গণতন্ত্র চলে আসে না। গণতন্ত্র চলে আসতে প্রত্যেকটা নাগরিককে তার ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন এবং সতর্ক হতে হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, যদি আমরা আবারও গুম, আয়নাঘর, নির্যাতনের দিকে ফিরে যেতে না চাই তাহলে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে। আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশ আর মাথা নত করবে না।
পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
