উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে জনগণের জীবন বদলাতে চায় বিএনপি: তারেক রহমান
যথাযথ ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার দল। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। এর মাধ্যমে ১৭ বছরের বেশি সময়ের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটে তার। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি দেশ নিয়ে নিজের এবং তার দলের ভাবনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি থেকেই বিএনপি তাদের পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, "২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো। আপনাদের কাছ থেকে আলোচনা-সমালোচনা আশা করছি, যাতে তা দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগতে পারে।"
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, গ্রামীণ নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে, যার লক্ষ্য মূলত গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন।
দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, 'দেশে ফিরে আসার পর সাভারসহ কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে। তারা একটি নতুন আশার আলো দেখতে চাইছে। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—এই সবগুলোকে সামনে রেখে আমরা যদি দেশের জন্য এবং স্বাধীনতার জন্য কাজ করি, তবে নিশ্চয়ই আমরা সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।'
তিনি আরও বলেন, 'তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাবের বিষয়টিও সমাধান করা প্রয়োজন।' কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে না পারলে সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি নারী, কৃষক, প্রবাসী ও তরুণসহ নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী মারাত্মকভাবে দূষিত। এছাড়া, দেশে নিরাপদ পানির সংকটও রয়েছে। এসব সমস্যার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
৫ আগস্টের আগের অবস্থায় বাংলাদেশের আর ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে এবং জবাবদিহিতার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।'
গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'আমাদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য আছে এবং থাকবে। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি সবাইকে বলব—আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা চালু রাখতে হবে। সেখানে অবশ্যই জবাবদিহিতার জায়গা থাকতে হবে।'
নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, 'একজন সাংবাদিক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি মনে করি, নারী ও পুরুষ উভয়েরই নিরাপত্তা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে।'
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমদ, নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন, আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দৈনিক খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন প্রমুখ।
এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর হাফিজ আহসদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
