রিজার্ভ লুটের ঘটনা তদন্তে ‘স্পেশাল কমিটি’ করতে হবে: তারেক রহমানের উদ্দেশে শফিক রেহমান
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার আগামীর পথটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তাই কিছু ক্ষেত্রে তারেক রহমানকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব পরামর্শ দেন। শফিক রেহমান বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় লোক এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে বসিয়েছিলেন এবং তাদের যোগসাজশেই বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ লুট হয়েছে। অথচ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পরে বিষয়টি প্রকাশ করলেন কেন?' এই পুরো ঘটনার তদন্তে একটি 'স্পেশাল কমিটি' গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ পাচার বন্ধে কড়াকড়ি আরোপের পরামর্শ দেন।
সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে শফিক রেহমান বলেন, কৃষক, ড্রাইভার এবং গৃহকর্মীদের কথা মাথায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে পারে। পেশাদারিত্বের স্বার্থে সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এই বিপুল জনসমর্থন ও আগ্রহকে প্রকৃত ভোটে রূপান্তর করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে শফিক রেহমান সাংবাদিকদের জন্য ১০ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, 'আজ তারেক রহমান সাধারণ সংবাদকর্মীদের কথা শুনতে চান।' তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড় আলোচনা, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান একটি দীর্ঘ ও আবেগময় বক্তব্য দেন। তিনি তার বক্তব্যে জেল জীবনের স্মৃতি, বেগম খালেদা জিয়ার কষ্ট, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
