বাজেটের পর সকল যোগ্য ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে: খুলনায় কার্ড বিতরণকালে হুইপ রকিবুল
জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের 'নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি'র সফল বাস্তবায়ন হলো আজকের এই ফ্যামিলি কার্ড। আগামী জুনের বাজেটের পর দেশের সকল যোগ্য ব্যক্তিকে পরিপূর্ণভাবে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর খালিশপুরস্থ হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে মোট ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। উদ্বোধনের দিনে ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হলেও অবশিষ্টদের অতি দ্রুত কার্ড প্রদান সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে হুইপ রকিবুল ইসলাম আরও বলেন, 'জনউন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালু ও মৃতপ্রায় শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে খুলনাকে একটি আধুনিক শিল্প নগরীতে রূপান্তর করা হবে। উন্নয়ন যাত্রায় কোনো প্রকার অন্যায়, মাদক ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায় আমরা স্বপ্নের খুলনা বাস্তবায়ন করব।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ডের পর পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্ডের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছি। আমাদের বিশ্বাস, সৎ ও যোগ্য মানুষের মাধ্যমেই সমৃদ্ধির নতুন পথ তৈরি হবে।'
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে দেশব্যাপী এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দেশের মোট ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা খুলনার অনুষ্ঠানস্থলে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির নারীদের ৪৯ ধরনের তথ্য-উপাত্ত 'পিএম স্কোরিং' পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে উপকারভোগী বাছাই করা হয়েছে। দেশজুড়ে আজ মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী এই ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
