জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী অবস্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, হুমকি এবং ছাত্রলীগকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের কেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে না-এই মর্মে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত চার শিক্ষক হলেন- অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম (সাবেক উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান (সাবেক উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন।
প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা প্রদান ও তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত 'ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি'র সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল' এবং 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' হলের নাম পরিবর্তনের যে দাবি জানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে আজ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সিনেট বরাবর সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর ডাকসু নেতারা উপাচার্যের কার্যালয়ের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন। সে সময় তারা শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। আজকের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সিনেটে পাঠানো হলো।
