বিচার না হলে এভাবে আরও পরিবার নিঃস্ব হবে: নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্ত্রী
তেজগাঁওয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যার ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামীর মরদেহ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুরাইয়া বেগম। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, 'এই ঘটনার বিচার না হলে আমার মতো আরও পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করা উচিত।'
হত্যাকাণ্ডের শিকার মোসাব্বির আগেই নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন উল্লেখ করে তার স্ত্রী বলেন, 'মাঝে মাঝেই ও বলত ওর অনেক শত্রু, ওর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো দিন ওকে হত্যা করা হতে পারে।' শেষ সময়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, 'সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ও আমাকে বলেছিল 'তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো'। এটাই ছিল ওর সাথে আমার শেষ কথা।'
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তেজগাঁওয়ের স্টার কাবাবের পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকার এআইটিভিইটি সেন্টারের সামনের এক গলিতে মোসাব্বির ও কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই দুর্বৃত্ত অন্ধকার গলিতে ওৎ পেতে ছিল এবং তারা গলি দিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সুফিয়ান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোসাব্বিরের কনুই ও পেটে এবং সুফিয়ানের পেটে গুলি লেগেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
