জকসু নির্বাচন: শিবিরের রিয়াজুল ভিপি, আরিফ জিএস নির্বাচিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য'। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন ওই প্যানেলের প্রার্থীরা।
নির্বাচনে ভিপি পদে মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস পদে আরিফ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।
জকসু নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, মো. রিয়াজুল ইসলাম ভিপি পদে ৫,৫৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ–সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রকিব পেয়েছেন ৪,৬৮৮ ভোট।
জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট।
এছাড়া এজিএস পদেও শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মাসুদ রানা ৫,০০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের বি এম আতিকুল তানজিলকে পরাজিত করেছেন। আতিক পেয়েছেন ৩,৯৪৪ ভোট।
এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী (৫ হাজার ৪০০ ভোট), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল (৫ হাজার ৫২৪ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন (৪ হাজার ৪৮৬ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ (৪ হাজার ৪৭০ ভোট), আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক (৪ হাজার ৬৫৪ ভোট), আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার (৪ হাজার ৪০১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে জর্জিস আনোয়ার নাইম (২ হাজার ৪৬৭ ভোট) এবং সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান (৩ হাজার ৪৮৬ ভোট) জয়ী হয়েছেন।
ছাত্রদল–ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মাহিদ হোসেন ৪ হাজার ২৩ ভোট এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল রাকিব ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্যের ৭টি পদের মধ্যে শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৫ জন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ফাতেমা আক্তার, ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট, শান্তা আক্তার ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট, জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট ও মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রদল–ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেলে দুজন বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন (৩ হাজার ৩০৭ ভোট), ইমরান হাসান ইমন (২ হাজার ৬৩৬ ভোট)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট গণনা দীর্ঘক্ষণ স্থগিত ছিল। পরে ম্যানুয়াল ও মেশিন উভয় পদ্ধতিতে গণনা শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে পুনরায় গণনা শুরু হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে এই প্রথম জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।
নির্বাচনে চারটি প্রধান প্যানেল অংশ নিয়েছিল: ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান', ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য', বাম জোট সমর্থিত 'মওলানা ভাসানী ব্রিগেড' এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান'
প্যানেলভিত্তিক প্রার্থীদের পাশাপাশি একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবেও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
