প্রার্থিতা বাছাইয়ে বৈষম্য ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ জামায়াতের
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে চরম বৈষম্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে।
বিশেষত দ্বৈত নাগরিকত্ব ও আইনি মামলার অজুহাতে জামায়াতের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে 'দ্বৈত নীতি' অবলম্বন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে জামায়াতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রার্থিতা বাছাইয়ে 'দ্বৈত নীতি'র অভিযোগ
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. তাহের অভিযোগ করেন, ''একই ধরনের আইনি জটিলতা বা দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রশাসন ভিন্ন আচরণ করছে।''
তিনি বলেন, ''বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু বা মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মতো প্রার্থীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যদি বৈধ হন, তবে কুড়িগ্রামে আমাদের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহীর মনোনয়ন কেন বাতিল করা হলো? এমনকি একই মামলায় অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হলেও আমাদের সিনিয়র নেতা হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।''
তিনি একে প্রশাসনের 'দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি' হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি ও এসপিদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অসন্তোষ
নির্বাচনি মাঠে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, ''একটি দলকে'রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।''
তিনি বলেন, ''আমি আজ তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে বলেছি যে বিটিভি বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মাধ্যম এখনও নিরপেক্ষ হতে পারেনি। এছাড়া 'একটি দলের ' প্রার্থীদের যেভাবে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যান্য দলের নেতাদের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত।''
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ''নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন এলাকায় 'একটি দলের' পক্ষ থেকে ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।''
ডা. তাহের প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বলেন, ''বর্তমানে কাউকে অনেক বেশি প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে একদমই দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ সময়ে এটি বড় ইস্যু না হলেও নির্বাচনের সময় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ এর সঙ্গে জনধারণার (পাবলিক ইম্প্রেশন) প্রশ্ন জড়িত।''
তিনি বলেন, ''কোনো বিশেষ প্রার্থীকে অতিরিক্ত প্রটোকল ও নিরাপত্তা দিলে সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে বিশেষ কোনো অবস্থানে যাচ্ছেন। এই ধরনের ইম্প্রেশন বা জনধারণা নির্বাচনের 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' বা সবার জন্য সমান সুযোগের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি দাবি করেন।''
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান এই জামায়াত নেতা।
ডা. তাহের বলেন, ''নির্বাচন কমিশন (ইসি) উপকূলীয় বা দুর্গম এলাকা ছাড়া বাকি সব জায়গায় সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত আশ্বাস দিয়েছে।''
তিনি বলেন, ''গত ৫৬ বছরে দেশে প্রত্যাশিত মানের সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। আগামী নির্বাচন যদি আগের মতো 'অ্যারেঞ্জড' বা সাজানো হয়, তবে দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, কিন্তু মুখে বলা আশ্বাস যথেষ্ট নয়। আমরা মাঠে তাদের কাজের প্রমাণ দেখতে চাই।''
সম্প্রতি ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, "এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। আমীরে জামায়াত অসুস্থ থাকায় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাকে দেখতে আসার সৌজন্যমূলক অনুরোধ করেছিলেন। আমরা কেবল সেই সৌজন্য রক্ষাই করেছি।"
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক বৈঠক হয়নি। তবে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে নির্বাচনের পর একটি সুন্দর ও সহযোগিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হওয়া গেছে।''
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি এখনই অনাস্থা না জানালেও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশন যদি আরপিও লঙ্ঘন ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জামায়াত পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাবে।
