জামায়াত নেতা তাহেরের করপোরেট ঋণের দায় ৩ কোটি টাকার বেশি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তিন কোটি টাকার বেশি করপোরেট ঋণের দায়ভার থাকার তথ্য প্রকাশ করেছেন। এই ঋণের অংক তিন কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা অনুযায়ী, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী ডা. তাহের চিকিৎসাসেবা খাতে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্মানী হিসেবে বছরে প্রায় ১০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয় করেন।
২০২৪–২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরী—যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক—বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা, যা তাহেরের আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আয়কর রিটার্নে দেখা যায়, তাহেরের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
অষ্টম জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তাহের। তিনি ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর হলফনামায় স্বাক্ষর করেন, যেখানে তাঁর সম্পদ, আয়, দায়দেনা ও মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, তাহেরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা নগদ এবং ২২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার শেয়ার ও বন্ড। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নগদ এবং ৯২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার ও বন্ড।
হলফনামায় দেখা যায়, তাহের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ কৃষিজমি ও অকৃষিজমির মালিক, যার অর্জনকালীন মূল্য ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ি রয়েছে তিনটি, যার অর্জনমূল্য তিন কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে ব্যক্তিগত কোনো ঋণ না থাকলেও সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠানের নামে কুমিল্লা এক্সিম ব্যাংক থেকে তিন কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ঋণের দায়ভার বহন করছেন।
হলফনামায় তাহের মোট ৩৭টি মামলায় জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন।
এর মধ্যে বর্তমানে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং অন্যটি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায়, যা বর্তমানে হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে।
অবশিষ্ট ৩৫টি মামলা খালাস, অব্যাহতি বা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সৈয়দ ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথমবারের মতো ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, তাঁর মেয়াদকালে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেছেন।
এছাড়া তিনি জানান, তাঁর সময়ে নির্বাচনী এলাকায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতায়ন ও সড়ক পাকাকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
