মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত হবে জামায়াত, এনসিপি ও শরিকদের আসন সমঝোতা
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা এক মাসেও চূড়ান্ত হয়নি।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আসন সমঝোতার অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এর মধ্যে নতুন তিনটি দলের যুক্ত হওয়া এবং অনেক আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষ হওয়া বা আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
এমনকি কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তও রয়েছে। যদিও গত অক্টোবর থেকে ইসলামী দলগুলো পাঁচ দফা দাবিতে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করে আসছিল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কত আসনে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হবে। এজন্য আমাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।"
১১ দলীয় জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। প্রথমে দলগুলো পারস্পরিকভাবে, পরে যৌথভাবে আলোচনা শুরু করে। তবে এর মধ্যে এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। ফলে কিছু আসনে সমঝোতা না হলে সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হবে, যেখানে জোটের সব দল প্রার্থী দিতে পারবে।
এ কারণে এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে।
মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের এক শীর্ষ নেতা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "জামায়াতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। আমরা প্রথমে সব জেলায় একটি করে আসনে প্রার্থী দিতে চেয়েছিলাম, পরে সেখান থেকে সরে এসেছি—যেহেতু এনসিপি ও এলডিপি জোটে যুক্ত হয়েছে। আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অনেক দলের সঙ্গেই এখনো বসা হয়নি।"
এ বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, "জাতীয় স্বার্থ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বিবেচনায় রেখে আলোচনা অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে একটি ন্যূনতম যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতার ধরন যাই হোক, নির্ধারিত কিছু আসনে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস রিকশা প্রতীক নিয়ে নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।"
খেলাফতে মজলিসের অপর অংশের নেতারা জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসনে সমঝোতা হয়েছে। বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে কিছুই চূড়ান্ত নয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ও সহসভাপতি রাশেদ প্রধান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "নতুন করে কিছু বিষয় আমাদের ভাবতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে জোটের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, সেগুলোতে আপিল শুনানি হবে। সেই পরিস্থিতির প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। এজন্য আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। তবে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। জোট ভাঙার কোনো শঙ্কা নেই।"
এদিকে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলেও জামায়াত ইসলামী ২৭৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বাকি ২৪টি আসন শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির নাহিদ ও আখতারসহ অন্যদের জন্য ৭টি আসন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ভোলা ও ময়মনসিংহে ২টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মামুনুল হকসহ ৫টি আসন, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ২টি আসন, এলডিপিকে চট্টগ্রাম-১৪ ও মাদারীপুর-২ আসনে এবং নরসিংদী-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ১টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "আলোচনা চলছে। আমরা একসঙ্গে সংস্কার কমিশনে কাজ করেছি, বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করেছি। আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে এবং সব পক্ষই সমঝোতা রক্ষায় আন্তরিক।"
