১১ দলীয় জোটে থাকা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ইসলামী আন্দোলন, বৈঠক চলছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে শেষ অব্দি ইসলামী আন্দোলন থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মূলত আসন সমঝোতা নিয়ে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে দলটির।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন টিবিএসকে বলেন, "১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ (বুধবার) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত আমাদের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য এবং প্রার্থীদের মিটিং হয়েছে।"
তিনি বলেন, "এখন আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম 'মজলিসে আমেলা'র বৈঠক শুরু হবে । সেখানে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।"
১১ দলের চূড়ান্ত আসন সমঝোতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন থাকবে কি না, এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন নি তিনি ।
এর আগে আন্দোলনরত ১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ দলের আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা অন্তত ৭০ টি আসনে তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। কিন্তু জামায়াত তাদেরকে ৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। এতে করে জোটের ভাগ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠক করে। বৈঠকে তারাও জোটে থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
দলটি বারবার বলে আসছে, অন্তত ২৫ আসনে তারা ছাড় না পেলে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে 'রিকশা' প্রতীকে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবে। এতে আলোর মুখ দেখবে না ইসলামি দলগুলোর প্রস্তাবিত 'এক বাক্স' নীতি ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোট মোট ৮৪৯টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে—যা সংসদের ৩০০ আসনের প্রায় তিনগুণ। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী জমা দিয়েছে ২৭৬টি, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৫৩টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৪টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ২৪টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
