যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা পেতে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জামানত গুনতে হবে বাংলাদেশিদের
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষিত একটি নতুন 'পাইলট' (পরীক্ষামূলক) কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের 'ভিসা বন্ড' জমা দিতে হবে।
ট্রাভেল.স্টেট.গভ (travel.state.gov) সাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন (আইএনএ)–এর ধারা ২২১(জি)(৩) অনুসারে জারি করা একটি অস্থায়ী চূড়ান্ত বিধির (টেম্পোরারি ফাইনাল রুল—টিএফআর) আওতায় বাংলাদেশসহ আরও কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য এই ভিসা বন্ডের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে 'ভিসা বন্ড' বা জামানতের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ তালিকায় বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ তালিকায় মোট ৩৮টি দেশ ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ নীতি আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এই কর্মসূচির অধীনে, বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত যে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। এ ক্ষেত্রে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের 'এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে রিপোর্ট' অনুযায়ী বি১/বি২ ভিসাধারীদের ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।
যেসব আবেদনকারীকে বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, তাদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের 'আই-৩৫২' (ইমিগ্রেশন বন্ড) ফর্ম পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সরকারি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম 'পে.গভ' (pay.gov)–এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলীতে সম্মতি জানাতে হবে। ভিসা আবেদন যেখানেই জমা দেওয়া হোক না কেন, এই নিয়ম সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন কেউ 'আই-৩৫২' ফর্ম জমা না দেন বা বন্ডের অর্থ পরিশোধ না করেন। দাপ্তরিক নির্দেশনা ছাড়া অর্থ জমা দিলে তা ফেরত দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করলে সে ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার কোনো দায় নেবে না বলেও জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ছাড়া বন্ড জমা দিয়ে যারা ভিসা পাবেন, তারা কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারবেন। নির্ধারিত বিমানবন্দরগুলো হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নিয়ম মানা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে অথবা প্রস্থানসংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত নাও হতে পারে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের রেকর্ডে যদি দেখা যায় কোনো ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন, অথবা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেননি, কিংবা প্রবেশপথে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে—তাহলে সংশ্লিষ্ট ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে বন্ডের শর্তাবলি লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করা, যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে ব্যর্থ হওয়া অথবা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা—যেমন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন—এ ধরনের বিষয়গুলো পর্যালোচনার আওতায় আসবে। শর্ত লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ঘটনাগুলো হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে পর্যালোচনার জন্য ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে পাঠানো হবে।
ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থান রোধ এবং মার্কিন অভিবাসন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে নাইজেরিয়া, নেপাল, ভেনেজুয়েলা ও উগান্ডার মতো আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এবার বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬); বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬); বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কেপ ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬); আইভরি কোস্ট (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫); গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬); গিনি-বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬); কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মালাউই (২০ আগস্ট ২০২৫); মৌরতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬); নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫); সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬); টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬); টুভালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫); জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)।
