মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করলেন তাসনিম জারা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার কিছু আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে তিনি এই আপিল আবেদন জমা দেন। আপিল গ্রহণ প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
আপিল দায়েরের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্যপদত্যাগকারী এই নেত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলাম, যা রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। আমরা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। মাত্র দেড় দিনের মাথায় ৫ হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার পক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন। তারা নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বুথ তৈরি করেছিলেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়েই আমরা শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।'
তাসনিম জারার আইনজীবী আরমান হোসেন বলেন, 'নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী আমরা ১ শতাংশ ভোটারের যে তালিকা জমা দিয়েছি, তা শতভাগ সঠিক। তবে ভোটার লিস্ট সংগ্রহের সময় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট কাজ করছিল না, যার ফলে কোনো ভোটার আদতে ওই এলাকার কি না, তা যাচাই করার সুযোগ আমাদের ছিল না। যে স্বাক্ষরগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের এনআইডি কার্ডের হার্ড কপিতে ভোটার এলাকা হিসেবে ঢাকা-৯ আসনের কথাই উল্লেখ ছিল। কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।'
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকায় দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে দুইজনের তথ্যে গড়মিল পাওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে তাসনিম জারা জানান, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও প্রায় ২০০টি বেশি স্বাক্ষর তারা জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'রিটার্নিং কর্মকর্তা ১০ জন ভোটারের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ৮ জনের তথ্য সঠিক পেয়েছেন। বাকি দুইজন ঢাকা-৯ এর ভোটার ছিলেন না বলে জানানো হয়। কিন্তু ওই ভোটাররা নিজেরাও জানতেন না যে তারা এই আসনের ভোটার নন। খিলগাঁও এলাকাটি ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ উভয় আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এমন বিভ্রান্তি হয়েছে। তাদের এনআইডি কার্ডের হার্ড কপিতে যে ঠিকানা ছিল, সে অনুযায়ী তারা ঢাকা-৯ এর ভোটার হিসেবেই স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু কমিশনের ডিজিটাল তথ্যে ভিন্নতা থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।'
উল্লেখ্য, সংশোধিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
