১০ ঘণ্টা পর শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু
ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব কমে আসায় আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এই রুটে যানবাহন পারাপার শুরু হয়। এর আগে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, কুয়াশার ঘনত্ব কমে নৌপথ দৃশ্যমান হওয়ায় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'মাঝনদীতে এখনো আংশিক কুয়াশা রয়েছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরিগুলো বর্তমানে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কুয়াশা পুরোপুরি কেটে গেলে ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হবে।'
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, শনিবার রাত থেকে নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপথের দিকনির্দেশক মার্কিং বাতিগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মাঝনদীতে বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চলাচল বন্ধের সময় কোনো ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় শরীয়তপুর ও চাঁদপুর—উভয় প্রান্তের ফেরিঘাটে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। শীতের রাতে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। রোববার সকাল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় আটকে পড়া যানবাহনগুলো ধাপে ধাপে পার করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পারাপার শুরু হওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটকে পড়া যানবাহনের চাপ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আগে পার করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
