১০ ঘণ্টা পর শরীয়তপুর–চাঁদপুর রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক
ঘন কুয়াশা কেটে যাওয়ায় প্রায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে প্রথম ফেরিটি ছেড়ে যায়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উপ-ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন জানান, 'বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মেঘনা নদী এলাকায় ধীরে ধীরে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে, নৌপথে দৃষ্টিসীমা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে আসে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টা থেকে শরীয়তপুর–চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী সব ফেরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।'
এর আগে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানায়, কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথে বর্তমানে ছয়টি ফেরি চলাচল করে। তবে ফেরিগুলোতে আধুনিক ফগ লাইট ও প্রয়োজনীয় নেভিগেশন সুবিধা না থাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর উভয় পাড়ে বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ ছোট ছোট শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দুর্ভোগ পড়েন। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নরসিংহপুর ও চাঁদপুর পাড়ের ফেরিঘাট এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যাওয়ায় নদীর মাঝখানে কয়েক মিটার দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। শীতের মধ্যে অনেক চালককে রাতভর ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য এই রুটে চলাচল করে। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।
