সংসদে ইসি গঠনের বিল পাস

বহুল আলোচিত 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ' বিল সংসদে পাস হয়েছে আজ (২৭ জানুয়ারি)।
আইন অনুযায়ী, ইসির গঠনতন্ত্র বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।
সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে উপযুক্ত প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি।
সিইসি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছে বর্তমান ইসি।
যোগ্যতা
সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা হল, প্রথমত তাদের অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৫০ বছর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অন্যান্য পেশায় কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অযোগ্যতা
একবার সিইসি বা প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা সিইসি পদের যোগ্য হবেন না। তবে, কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তাকে সিইসি নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।
আদালত কর্তৃক 'উন্মাদ' ঘোষণা করা হলে বা 'দেউলিয়াত্ব' হিসেবে ঘোষণা করার পরে জেল থেকে মুক্তি না পেলে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সমর্পণ করে বিদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে বা তার প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করলে, নৈতিক স্খলন জড়িত কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে বা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ব্যক্তি সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি (চিফ জাস্টিস) কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।
অন্য পাঁচজন সদস্য হবেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি, কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত অন্য দুই ব্যক্তিত্ব।
সংবিধানে একটি বিশেষ আইনে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা বলা হলেও অতীতে এ বিষয়ে কোনো বিল প্রণয়ন করা হয়নি।