অতীতের ২ নির্বাচনে ভরাডুবি, এবার কি পারবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি?
অতীতের কোনো জাতীয় নির্বাচনে কখনও একটি আসন না জিতলেও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪২ জন প্রার্থী দিয়ে অন্যতম প্রধান অংশগ্রহণকারী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দলটির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু আশা করছেন এবার তারা নির্বাচনে ভালো করতে পারবেন।
তিনি বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আসনে না জিতলেও দিনদিন আমাদের ভোট বাড়ছে। বর্তমানে সারাদেশে আমাদের কমিটি আছে। এবার আমাদের প্রার্থীরা ভালো সংখ্যায় ভোট পাবেন বলে আশা করি।'
এবারের নির্বাচনে 'আম' প্রতীকে লড়তে যাওয়া এ দলটি প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩২টি দলের মধ্যে ৫ম স্থানে রয়েছে। ১৫১ প্রার্থীকে মনোনীত করা তৃণমূল বিএনপি থেকে অল্পই পিছিয়ে এনপিপি।
৩০৪ জন মনোনীত প্রার্থী নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে একজন প্রার্থী বেশি দলটির। আর জাকের পার্টি ২১৮ প্রার্থী নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
২০০৭ সালে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা শেখ শওকত হোসেন নিলু এনপিপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি প্রথম ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর ৩০ জন প্রার্থী মোট ১০ হাজার ৩৪৮ ভোট বা গড়ে ৩৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। তারা সবাই ভোটে হারেন এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
২০১৪ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে দলটি নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগ দেয়।
চার বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোটের ময়দানে নামে। এটি ৮১ জন প্রার্থীকে মনোনীত করে যারা মোট ৪৩ হাজার ৩৩০ ভোট বা গড়ে ৫৩৫ ভোট পান। এ নির্বাচনেও দলটির সব প্রার্থী পরাজিত হন, সবার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়।
তবে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছালু তৃতীয়বারে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
তিনি বলেন, 'আমি নিজে আমার আসনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এছাড়াও কক্সবাজার-১ আসনে আমাদের দলের প্রার্থী ভালো ফলাফল করবেন বলে আশা করছি।
'গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালিপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে আমাদের মনোনীত প্রার্থী শেখ আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তিনিও ভালো ভোট পাবেন।'
আগামী ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
