রংপুরে বিএনপির জনসমাবেশে মাঠের চিত্র পাল্টাচ্ছে
রংপুরে বিএনপির জনসমাবেশের মাঠের চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ভোরের দিকে মানুষজন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে দলে দলে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসছে।
সকাল থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে কালেক্টরেট মাঠে প্রবেশ করছেন।
এসময় মাঠে থাকা অন্য নেতাকর্মীরা তাদেরকে উষ্ণ কড়তালির মাধ্যমে বরণ করে নিচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থেকে তিনদিন আগে এসেছেন বশির উদ্দিন। রাতে ছিলেন এক আত্মীয়ের বাসায়। দিনের বেলায় প্রতিদিন কালেক্টরেট মাঠে এসেছেন।
জানালেন, "আওয়ামী লীগের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা আসবে জানতাম। এ কারণে তিনদিন আগেই রংপুর এসেছি।"
ঠাকুরগাঁও সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়ন থেকে মাছে সকালে এসেছেন মো. বাদশা মিয়া। বিকেলের অনুষ্ঠানে সকালে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে এই যুবক বলেন, "আমরা গোটা দেশ মিলে এখন কারাগারে বন্দি। আমাদের মুক্তির জন্য সকাল রাত নেই। প্রয়োজনে সারারাত মাঠে কাটাবো। দিনের পর দিন রুটি পানি খেয়ে থাকব। আমাদের এই আন্দোলন সফল হতে হবে।"
সকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে আসা নারী নেত্রী মোছা. লিপি বেগম বলেন, "খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে আমরা আসছি। তারেক জিয়াকে ভালোবেসে এসেছি। আমরা এই সরকারের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই।"
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদসহ নানান দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার রংপুরে কালেক্টরেট মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু গণসমাবেশের ডাক দেওয়ার পর এখানে 'পরিবহন রাজনীতি' শুরু হয়।
সমাবেশের দুদিন আগে জেলা মোটর মালিক গ্রুপ রংপুর বিভাগের আট জেলায় মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে রংপুর বিভাগ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
