‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযুক্ত নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় তরুণী চম্পাকে ধর্ষণ ও খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসাইন (৩০) পুলিশের সঙ্গে'বন্দুকযুদ্ধে'নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে চকরিয়া উপজেলার মরংঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরত চম্পাকে চলন্ত সিনএনজি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছিলেন সাজ্জাদ ও সিএনজি চালক জয়নাল।
নিহত সাজ্জাদ পেকুয়া উপজেলা সদরের শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, লকডাউনে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ৬ মে কক্সবাজারের খরুলিয়ার তরুণী চম্পা চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কয়েকটি গাড়ি পাল্টে সর্বশেষ পেকুয়ার জয়নালের সিএনজি অটোরিকশায় চকরিয়া আসার পথে কৌশলে তাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়৷ মরদেহ চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা এলাকার আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরে ফেলে যান তারা। পরে চকরিয়া থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরদিন নিহত তরুণীর বাবা নছিমন চালক রুহুল আমিন তার আপন বোন, ভগ্নিপতি, ভাগ্নেসহ চারজনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে র্যাব। ২৪ ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনায় জড়িত অটোরিকশাচালক জয়নাল আবেদীনকে (১৮) আটক করা হয়। জয়নাল পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা নন্দীরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
জয়নাল আবেদীনের স্বীকারোক্তি মতে র্যাব জানতে পারে, সাজ্জাদ নামে অপর এক বখাটে এ ঘটনায় জড়িত। তারা দুইজন তরুণী চম্পাকে পেকুয়া-চকরিয়া সড়কের নির্জন ব্রিজ এলাকায় ধর্ষণ করেন।
এরপর সিএনজিতে তুলে চলন্ত অবস্থায় বিপরীতদিক থেকে আসা অপর একটি গাড়ির সামনে ছুঁড়ে মারেন। তাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চম্পা।
র্যাব অভিযুক্ত সাজ্জাদকে ধরতে বেশ কয়েকবার তার বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
সর্বশেষ সোমবার সকালে র্যাবের একটি দল সাজ্জাদের চাচাতো ভাই প্রতিবন্ধী নেজাম উদ্দিন ও আবদুর রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। তারপর থেকে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী সাজ্জাদকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে একই দিন সকাল ১০টার দিকে শেখেরকিল্লা ঘোনার একটি বাড়ি থেকে স্থানীয়রা সাজ্জাদকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
বন্দুকযুদ্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, সাজ্জাদকে আটক করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পেকুয়া থানা পুলিশ। একইদিন রাতে আটক সাজ্জাদ তার কাছে থাকা অস্ত্রের সন্ধান দেবে বলে পুলিশকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়৷
সেখানে পৌঁছামাত্র সাজ্জাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে৷ এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এতে হামলাকারীরা পিছু হটে৷ পরে ঘটনাস্থল থেকে সাজ্জাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি হাবিবুর রহমান।
