কক্সবাজারে দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে হামলা, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৈয়দা খাতুন (৫৫) ওই এলাকার সাব্বির আহমদের স্ত্রী। হামলায় তার ছেলে এস এম ইমরান ওরফে আব্দুর রহমানও (৩২) আহত হয়েছেন।
নিহত নারীর ছেলে আবদুর রহমানের ভাষ্যে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদরাসার দেয়ালে ছাত্রদলের গ্রাফিতির নিচে 'জয় বাংলা' স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল করিম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে আব্দুর রহমানকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়।
আবদুর রহমানের দাবি, শনিবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে টাইপালং স্টেশনে যাওয়ার পথে তার বন্ধু মোহাম্মদ ইউনুসের (ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত) সাথে কথা বলছিলেন। ওই সময় ৭ থেকে ৮ জন ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মী তাদের দেখতে পেয়ে অতর্কিত মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে তার মা, স্ত্রী ও ছোট বোন এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করে হামলাকারীরা। হামলার সময় সৈয়দা খাতুনকে 'লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলে' তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, 'ওই নারীকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বার্তাসংস্থা ইউএনবিকে বলেন, 'খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।'
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
নিহতের ছেলের অভিযোগ, এ হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জড়িত। তিনি বলেন, 'স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসান এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে'।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে আব্দুর রহমান নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, 'ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিকদার ওরফে মিজান সিকদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ "নিরপরাধ" লোকজনকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে অনেককে আসামি করে মামলা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।'
