কক্সবাজার হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪ শিশু ভর্তি, ১ শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজারে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন ভর্তি রয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। এই রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বলা যাবে না। বুধবার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মহেশখালীর বাসিন্দা সরওয়ার আলমের কন্যাশিশু হিরা মনিকে। ভর্তির পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। চিকিৎসকরা শিশুটির খাবারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা দিলেও অভিভাবকরা তা মানেননি। শক্ত খাবার গলায় আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা তথ্য দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার হাসপাতালে ৩৭ জন ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বুধবার নতুন করে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, কক্সবাজার থেকে বুধবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ থাকা ৭১ জন রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। মঙ্গলবার মারা যাওয়া একটি শিশু হামে আক্রান্ত বলা হলেও তার হাম শনাক্ত হয়নি।
তিনি বলেন, বুধবার মারা যাওয়া শিশুটির নমুনা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, 'বুধবার একটি শিশু মারা গেছে। শিশুটির হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও মুখে ঘা ছিলো। তবে মুখে খেতে না পারায় মুখে নল দিয়েছিলাম। তবে অভিভাবক ভুলবশত মুখে খাওয়াতে গিয়ে নাকে-মুখে হয়ে শিশুটি অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। পরে বহু চেষ্টার পরেও আমরাকে শিশুটিকে বাঁচাতে পারিনি।'
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, 'কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।'
ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তিনি বলেন, 'কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।'
