র্যাবের তদন্ত দলকে সিনহা হত্যার বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ বাহারছরার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) র্যাবের একটি দল। শনিবার বেলা ২টার দিকে বাহারছড়ার শামলাপুর এপিবিএন পুলিশের চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন তারা।
এ সময় তাদের দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে এলে তদন্ত দল তাদের নির্ভয়ে তথ্য দেবার আহবান জানায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের সহকারি পরিচালক এএসপি খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যাবের দলটি ঘটনাস্থলে ঘণ্টা দেড়েক সময় ব্যয় করে। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, কোনো অপরাধী যেন ছাড়া না পায়, সেভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা কোনো পক্ষের না। প্রকৃত ঘটনা তুলে আনার জন্য কাজ করছি।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে গাড়ির বহরে র্যাবের একটি দল অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনাস্থল টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় পরিদর্শনে আসে। তদন্ত দল ঘটনার প্রত্যক্ষর্দশী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে। এতে এক প্রত্যক্ষর্দশী, এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সিনহার মরদেহ মাটিতে কীভাবে পড়েছিল, সেটির বর্ণনা দেন।
বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে ইট দিয়ে শরীরের অবয়ব তৈরি করে ঘটনার সময় সিনহার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন র্যাবের নতুন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় একটি প্রাইভেট কার দাঁড় করিয়ে সিনহার প্রতীকী অবস্থান তৈরি করেন। ঘটনার সময় এপিবিএন'র চেকপোস্টে বেরিক্যাডগুলোর অবস্থান বোঝারও চেষ্টা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে তদন্তকারি দলটি ঘটনাস্থলে ঘুরে দেখে এবং নানা তথ্য সংগ্রহ করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তদন্তকারি দল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন বলেন, মেরিন ড্রাইভে বাহারছড়ায় এপিবিএন'র চেকপোস্টে র্যাবের একটি দল পরিদর্শন করেছে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরির্দশক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
