কক্সবাজারে তেল না পেয়ে পাম্পে শটগান উঁচিয়ে ইটভাটা মালিকের হুমকি, গ্রেপ্তার ১
কক্সবাজারের রামুতে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীকে মারধর এবং লাইসেন্স করা শটগান উঁচিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে বি কে আজম নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে উপজেলার তেমুহনী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বি কে আজম স্থানীয় 'বি কে আজম ব্রিক ফিল্ড' নামক একটি ইটভাটার মালিক।
রামু থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ব্যবসায়ী বি কে আজম একটি প্রাইভেট কার নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে অতিরিক্ত জ্বালানি দাবি করেন। স্টেশনের কর্মচারী জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মচারীকে মারধর শুরু করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে গাড়ি থেকে নিজের লাইসেন্স করা শটগান বের করে কর্মচারীদের গুলি করতে উদ্যত হন এবং অস্ত্র উঁচিয়ে তাণ্ডব চালান। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
এশিয়া পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক নূরুল হক বলেন, "পুরো জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী একটি প্রাইভেট কার এক হাজার টাকার বেশি জ্বালানি নিতে পারে না। কিন্তু বি কে আজম নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকার জ্বালানি দাবি করেন। চাহিদা অনুযায়ী তেল না দেওয়ায় তিনি শটগান বের করে কর্মচারীদের দিকে তেড়ে যান এবং হামলার চেষ্টা করেন।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত বি কে আজম প্রথমে একজনকে মারধর করছেন। পরে গাড়ি থেকে শটগান বের করে তা তাক করে তাণ্ডব চালান। এ সময় অন্য এক ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তৎপর হয়। পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "অস্ত্র উঁচিয়ে তাণ্ডব চালানোর ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে বি কে আজমকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তার লাইসেন্স করা শটগানটিও জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।"
এ ঘটনায় পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রামু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
