ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৪৭
দুর্নীতির অভিযোগে পার্লামেন্ট মেম্বার (এমপি) ও তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী। আজ রোববার স্থানীয় সময় ভোরে বাগদাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইরাকের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএনএর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রিন জোনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, অন্যান্য দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সরকারি অফিস রয়েছে। এছাড়া অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিকও এই এলাকায় বসবাস করেন।
টেলিগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্যাংকের মতো ভারী সামরিক যান নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রিন জোনে অবস্থান করছে। কিছু ভিডিওতে তাদের একটি ভবন ও একটি বাড়ির ভেতরেও দেখা যায়।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, গ্রিন জোনের প্রবেশপথগুলোতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
এই বড় ধরনের অভিযানে শুধু গ্রিন জোন নয়, বাগদাদের আরও কয়েকটি এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করা।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, আদালতের নির্দেশে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী ও সেনাবাহিনী অংশ নেয়।
এর আগে আইএনএ জানায়, গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দুর্নীতির অভিযোগে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইএনএর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যেই এমপিদের আইনি সুরক্ষা (ইমিউনিটি) তুলে নেওয়া হয়েছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বহু বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত এই অভিযান নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়ও প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, এই অভিযান শুধু দুর্নীতির জন্য নয়। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, ডলার পাচার এবং ইরানের তেল চোরাচালানের অভিযোগেও অভিযান চালানো হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী জাইদি এ মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটন সফরে যাবেন।
বাগদাদে কর্মরত এক কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, এই নিরাপত্তা অভিযান ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতির অংশ। এর মাধ্যমে জাইদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে দেখাতে চান।
জাইদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশের সব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ শুধু রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন এসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় এসব গোষ্ঠী ইরানের পক্ষে অংশ নেয়। তারা ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়, যার মধ্যে বাগদাদে মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনাও ছিল। এছাড়া উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও তারা হামলা চালায়।
জাইদি আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ ইরাকে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশটি বড় ধরনের আয় হারিয়েছে। তাই অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এখন ইরাকের জন্য খুবই জরুরি।
