ট্রায়াল রানের দেড় মাস পরও চালু হয়নি পূর্বাঞ্চল রেলের ১০ ইঞ্জিন
পূর্বাঞ্চল রেলে ইঞ্জিন সংকট দূর করতে গত বছরের ৩১ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) আমদানি করে রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের শুরুতে রেল বহরে ইঞ্জিনগুলো যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ট্রায়াল রান সম্পন্ন হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় রেল বহরে ইঞ্জিনগুলো সংযোজন করতে পারছেন না পূর্বাঞ্চল রেলের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ, রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নূর আহম্মদ হোসেন বলেন, রেল লাইনে নতুন ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান হলেও ইঞ্জিনের জেনারেটরে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। এই সমস্যার সমাধান হওয়া ছাড়া রেল বহরে ইঞ্জিন যুক্ত করা যাচ্ছে না।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার নজরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, কোরিয়া থেকে আনা ১০টি ইঞ্জিনের প্রথম ট্রায়াল রান শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ও ঢাকা রুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনে সফলভাবে ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয় গত ১৭ নভেম্বর । ইঞ্জিনগুলো বর্তমানে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে রয়েছে।
এদিকে পূর্বাঞ্চল রেলে চলাচলকারী বেশিরভাগ ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। বহরে থাকা ৩৬টি ইঞ্জিন পুরোপুরি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এই সংকট কাটাতে নতুন ১০টি ইঞ্জিন রেল কর্মকর্তাদের শুরুতে আশা জাগালেও বর্তমানে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩৬টি লোকোমেটিভ (ইঞ্জিন) রয়েছে। এর মধ্যে আয়ুষ্কাল রয়েছে মাত্র ২৮ টি ইঞ্জিনের। বাকি ১০৮টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। পূর্বাঞ্চলে অপারেশনে আছে ১০০টি ইঞ্জিন। পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে ৩৬টি ইঞ্জিন। পূর্বাঞ্চল এরিয়ায় ট্রেন পরিচালনার জন্য নিয়মিত ১১৩টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। সেখানে চলাচল উপযোগী রয়েছে ১০০টি ইঞ্জিন। ১৩টি ইঞ্জিনের ঘাটতি পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয়। এই অবস্থায় নতুন দশটি ইঞ্জিন যুক্ত হলে সংকট কিছুটা হলেও কাটানো যেত।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে মিটারগেজ লাইনে ট্রেন চলাচলের জন্য ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ কিলোমিটার গতি সম্পন্ন ১০টি ইঞ্জিন কেনা হয়। কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির উৎপাদিত এসব ইঞ্জিন কোরিয়া থেকে গত ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সেগুলো পাহাড়তলী কারখানায় আসে ২ সেপ্টেম্বর।
গত বছরের ১ নভেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক সরদার শাহাদাত আলী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, আমদানিকৃত ১০টি ইঞ্জিন এক মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের শুরুতে রেল বহরে সংযোজন করা সম্ভব হবে।
গত ৭ অক্টোবর পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে নতুন ইঞ্জিন পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ।
শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তারেক মোহাম্মদ সামছ তুষার বলেন, 'নতুন ১০টি ইঞ্জিন কবে রেল বহরে যুক্ত হবে তার নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি।'
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'নতুন ১০টি ইঞ্জিন চালু হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত নই।'
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল নং-৫২ অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল রেলে আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস, ডেমু, লোকাল ও মিক্সড ট্রেন চলাচল করে ৭৫টি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০টি এবং ঢাকা বিভাগে ৪৫টি। এছাড়া পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনে যাত্রীবাহী বগির সংখ্যা ৮৯৭। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪৩টি ও ঢাকা বিভাগে ৫৫৪টি।
রেলসূত্র জানায়, ইঞ্জিনগুলো বসিয়ে রাখার কারণে ওয়ারেন্টি সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রেল বিভাগ। ইঞ্জিনগুলোর জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করে। এরমধ্যে তিন বছর পুরো ইঞ্জিনের এবং পরবর্তী দুই বছর সব ধরনের পার্টসের ওয়ারেন্টি। ইঞ্জিনগুলো বুঝে নেওয়ার পর বসিয়ে রেখে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ করে ফেললে রেল বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
