উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ করোনা মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্ধ সরকার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যয় করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও জানান, যারা ত্রাণ চাইতে পারছেন না, তাদের ঘরেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শনিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা জানান।
এছাড়া, সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। বিশ্ববাসী যেন এই ভাইরাস থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। আল্লাহর শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি।
করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখনো বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে আমরা ভালো আছি। আমরা বার বার ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসলে মানুষ কেন যেন বেশি সাহসী হয়ে গেছে। অনেকে মানতেই চায় না।
তিনি বলেন, আমি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে নির্দেশনা, সবাই দয়া করে সেটা মেনে চলবেন। তাহলে কেউ করোনা ঝুঁকিতে পড়বেন না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রায় ২০৯টি দেশ আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। গত ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। যখনই আমাদের দেশে দেখা দেয়, তখনই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কতদিন এই অবস্থা থাকবে তা কেউ বলতে পারছে না। সারা বিশ্বে কত শক্তিশালী দেশ, কত অস্ত্র কোনো কিছুই কাজে লাগল না। একটা ভাইরাস চোখে দেখা যায় না। তার কারণে আজ সারা বিশ্ব স্থবির, সারা বিশ্বের মানুষ আজ ঘরে বন্দি। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা পারদর্শী। কিন্তু করোনাভাইরাসের দুর্যোগ সম্পর্কে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কারও নেই। আর প্রাদুর্ভাব যে এত ভয়াবহ হবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। যখন এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তখনই আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
এর আগে, শনিবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে শুরু হয় এ অধিবেশন। শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এ অধিবেশন। বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় শুরুতেই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা সিলেটের ওসমানি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাঈন উদ্দিনের স্মরণেও করা হয় শোক প্রকাশ। তাছাড়া আগের অধিবেশন থেকে এ অধিবেশনের মধ্যবর্তীকালে মৃত্যুবরণ করা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, বিশ্বনেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণেও শোক প্রকাশ করা হয়।
এরপর সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
