ওভাবে কার দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন তামিম

একটু আগেই ম্যাচ শেষ হয়েছে, উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে ফিরতে ফিরতে হাত মেলাচ্ছিলেন রংপুর রাইডার্স ও ফরচুন বরিশালের ক্রিকেটাররা। এর মাঝেই হঠাৎ উত্তপ্ত অবস্থা, যেখানে মেজাজ হারাতে দেখা যায় বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। কারও দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার, তাকে থামানোর চেষ্টায় রংপুরের এক কর্মকর্তা।
কেন চটে গেলেন তামিম, কার দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন ওভাবে? সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রাখা হলেও দুই কোনো প্রতিনিধি বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুরের ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স হেলসের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন তামিম। হেলসের মুখভঙ্গি আপত্তিকর মনে হওয়ায় বিতণ্ডায় জড়ান তিনি, এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিপিএলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে হাত মেলানোর সময় তামিমকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মুখভঙ্গি করেন হেলস। যেটা তামিমের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। রংপুরের ব্যাটসম্যানকে তিনি বলেন, 'এ রকম করছো কী কারণে, কিছু বলতে চাইলে মুখে বলো। পুরুষের মতো আচরণ করো।'
তামিমের এমন কথা শুনে হেলসও কিছু বলে ওঠেন। এরপরই অবস্থা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান হাত মেলাতে গেলেও ক্ষুব্ধ তামিম সেদিকে নজর না দিয়ে কথা বলতে বলতে হেলসের দিকে তেড়ে যেতে থাকেন। বরিশালের অধিনায়ককে থামাতে এগিয়ে যান রংপুরের টিম ডিরেক্টর শানিয়ান তানিম। তিনি তামিমকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা করেন।
ম্যাচের পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রংপুর অধিনায়ক সোহান বলেন, 'এটা আমি খুব কাছ থেকে দেখিনি। কিন্তু আমিও এদিকে আসার পর দেখেছি, মানে শেষ পর্যায়ে যখন ব্যাক করেছি। আমি আসলে যাওয়ার পর বুঝতে পারবো যে কী নিয়ে হয়েছে। কিন্তু কিছু একটা হয়েছে, আমিও এটা দেখেছি। তবে আমি ছিলাম না ওখানে।'
সংবাদ সম্মেলনে একই রকম উত্তর দেন বরিশালের ব্যাটিং কোচ নাফিস ইকবাল। সাবেক এই ব্যাটসম্যান ও তামিমের বড় ভাই বলেন, 'আমি নিশ্চিত নই, যেহেতু এটা নিয়ে আলাপ হয়নি। উত্তেজিত হয়েছে (তামিম), এটা দেখেছি। ম্যাচ হারার পর, বিশেষ করে এই ধরনের ম্যাচে, অনেক আবেগ চলে আসে। আশা করি, সিরিয়াস কোনো কিছু নয়। নিশ্চয়ই কিছু একটা বলা হয়েছিল (অপর পক্ষ থেকে), যেটির প্রতিক্রিয়া ছিল (তামিমের উত্তেজিত হওয়া)। তবে আমার মনে হয়, তেমন সিরিয়াস কিছু নয়।'
এর আগে ম্যাচ থেকেও তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা বরিশাল ব্যাট হাতে শাসন চালায়। তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, কাইল মেয়ার্স, ফাহিম আশরাফদের ব্যাটে ৫ উইকেটে ১৯৭ রান তোলে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জবাবে ইফতিখার ও খুশদিলের ব্যাটে ঠিক পথে থাকা রংপুরকে জয় এনে দেন ব্যাটে হাতে তাণ্ডব চালানো ম্যাচসেরা সোহান। শেষ ওভারে ২৬ রান দরকার ছিল, মেয়ার্সের করা ওভারে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৩০ রান তোলেন তিনি।