বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনার মুদ্রাস্ফীতির সম্পর্ক!
১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেই সময়ের বিজয়ী দলের সঙ্গে ফাইনালে ওঠা বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের মিল খুব সামান্যই পাওয়া যাবে। তবে এই বিশ্বকাপের মৌসুমেও দেশটির মানুষ কয়েক দশক পুরোনো এক বোঝা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, আর তা হলো ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি।
চলতি মাসে আর্জেন্টিনার বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৯৯ শতাংশে এসে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। শিগগিরই তা তিন অঙ্কও ছুয়ে ফেলবে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা যখন ১৯৮৬ সালের শিরোপা জয় করেন, তখনও দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ছিল গড়ে ১১৬ শতাংশ। ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনকারী দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনা যখন প্রথম বিশ্বকাপ জিতে, সে বছর দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১৭৬ শতাংশ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ও সমীক্ষা থেকে এই পরিসংখ্যান জানা যায়।
১৯৮৬ সালে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের এক বছর পর জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল মেসি। সময়ের সঙ্গে ম্যারাডোনার সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে জয় করেন ভক্তদের মন। কাতার বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে আজ মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এক সময়ের মধ্যেও দেশটির মানুষ আজ উচ্ছ্বসিত।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি যেন এক চিরন্তন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের সাফল্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক নির্ণয় করা যাবে না অবশ্য। ১৯৯০ সালের ফাইনালে যখন আর্জেন্টিনা হারে, সেসময় দেশটির মুদ্রাস্ফীতি প্রায় দুই হাজার শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে এসে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারলেও সেসময় তাদের মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ২২ শতাংশ। তবে কানাঘুষা শোনা যায় যে আর্জেন্টাইন সরকার পরিসংখ্যানের তথ্য খানিকটা বদলে দিয়েছিল।
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আজ কিলিয়ান এমবাপে ও ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। দেখা যাক এবারের মুদ্রাস্ফীতি দেশটির বিশ্বকাপ ভাগ্যে কী প্রভাব ফেলে!
- সূত্র: ব্লুমবার্গ
