ব্রিটিশ-আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশের সিগারেট বিক্রি ১৪% হ্রাস, প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে ৩৪%
মূল্যস্ফীতি, উচ্চ করহার এবং দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের চাপে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ।
এ সময়ে কোম্পানিটির সিগারেট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৪ শতাংশ বা ১৫০ কোটি ৭০ লাখ শলাকা কমেছে। একই সঙ্গে মুনাফা কমেছে ৩৪ শতাংশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৮৮ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা।
আজ বুধবার (১৪ মে) শেয়ারবাজারে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।
তথ্য প্রকাশের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ২১৪ টাকায় নেমে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৯২৩ কোটি ১০ লাখ শলাকা সিগারেট বিক্রি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৯০ লাখ শলাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশের তামাক খাতে ভোক্তা চাহিদার ওপর চাপ বা বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর পেছনে উচ্চ করহার, মূল্যস্ফীতিজনিত ব্যয় সংকোচন কিংবা তুলনামূলক কম দামের বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ার মতো কারণ থাকতে পারে।
বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির মোট রাজস্বও কমেছে বলে আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুনাফা কমে যাওয়ার বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিক্রির পরিমাণ ও রাজস্ব কমে যাওয়ার কারণেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস কমেছে।
কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, অর্থায়ন ব্যয় সামান্য কমে ৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকায় নেমে এলেও পরিচালন ব্যয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ২৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি নেট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ২২ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়েও এটি ঋণাত্মক ছিল, তখন পরিমাণ ছিল ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। তবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ১০৩ টাকা ৩৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিক্রি থেকে অর্থ আদায় কমে যাওয়া এবং কার্যকর মূলধনের চাহিদা পূরণে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবহার বাড়ায় সুদ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ার কারণে নেট পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে।
কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭২৫ কোটি টাকার মোট বিক্রির বিপরীতে সরকারকে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৭ হাজার ২৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বিএটি বাংলাদেশ। এছাড়া আয়কর ব্যয় বাবদ পরিশোধ করেছে ২৮৫ কোটি টাকা।
এর আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৭ হাজার ৭৩৩ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিল।
দেশীয় বাজারে বিক্রি থেকে কোম্পানিটির মোট আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। তবে সমাপ্ত পণ্য রপ্তানি থেকে কোনো আয় হয়নি। যদিও তামাকপাতা রপ্তানি করে ৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা আয় করেছে কোম্পানিটি।
কর পরিশোধের পর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।
