প্রথম ম্যাচের আগে চার অধিনায়ক যা বললেন
পাঁচ দলের অংশগ্রহণে ২৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার মাঠে গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের দল জেমকন ঢাকার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। ম্যাচটি বেলা দেড়টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে।
উদ্বোধনী দিনে আরও একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল জেমকন খুলনা লড়বে তামিম ইকবালের দল ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচের আগেরদিন চার দলের অধিনায়ক নিজের দল, টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্যসহ আরও অনেক কিছু নিয়েই কথা বলেছেন।
তামিম ইকবাল
সাকিবের ফেরা নিয়ে: আমি নিশ্চিত ওর (সাকিব আল হাসান) জন্য অনেক বড় দিন। কারণ ও প্রায় এক বছর পর মাঠে ফিরছে। ওর জন্য বড় দিন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমি নিশ্চিত ওর ভক্তরা ওকে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবে।
দল নিয়ে: আমাদের দলে হয়তো নামিদামি ওই রকম খেলোয়াড় নেই, তবে ক্রিকেট এমন একটা খেলা যে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী হয়ে ম্যাচ জিতবে বা টুর্নামেন্ট জিতবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আমি নিশ্চিত যে খেলোয়াড়গুলো আছে আমার, তারা সবাইই সামর্থ্যবান। তারা কোনো না কোনো জায়গায় নিজেকে প্রমাণ অবশ্যই করেছে। আমার বিশ্বাস আছে যে তারা ভাল করবে।
শিশিরের প্রভাব নিয়ে: প্রথম ম্যাচটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়। কারণ প্রথম ম্যাচের আগে তো ওভাবে বোঝা যায় না শিশির কতটা প্রভাব ফেলবে। লাইটের নিচে আমরা এখন পর্যন্ত অনুশীলন করিনি। আশা করছি ওরকম হবে না, যদি হয় তাহলে প্রথম ম্যাচে বিচার করা একটু কঠিন। আর বিশেষ করে যখন আপনি দ্বিতীয় ম্যাচ খেলছেন, শিশির কমবেশি দুই ইনিংসেই থাকে। হয়তো প্রথম ইনিংসে একটু কম থাকে, তবে থাকে। কালকের পর ভালোভাবে বোঝা যাবে।
প্রতিপক্ষ নিয়ে: নিশ্চিতভাবেই কাগজে-কলমে ওরা খুবই শক্তিশালী দল। তবে যেটা আমি বললাম, আপনার দলে যেই থাকুক না কেন, সবচেয়ে বড় জিনিস হলো বিশ্বাস করা। খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস করা, যেটা আমার আছে। আপনি হয়তো বড় নাম খুজেঁ পাবেন না তবে তারা সবাই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
দল নিয়ে: কাগজে-কলমে হয়তো আমাদের দলকে অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছে। তবে আমি সবসময়ই একটা কথা বিশ্বাস করি যে মাঠের পারফরম্যান্সটা সব সময়ই মুখ্য থাকবে। আপনি যতো বড় নামই থাকেন, যতো ভালো ক্রিকেটারই হন, দিনশেষে আপনাকে মাঠে এটা প্রমাণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বলব, অবশ্যই আমাদের প্রমাণের অনেক কিছু আছে।
সাকিবের ফেরার প্রসঙ্গে: খুবই ভালো লাগছে। আমরা সবাই জানি সাকিবের গুরুত্ব কতটুকু। সেটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হোক বা ঘরোয়াতে। অবশ্যই আমরা সবাই খুশি ওর জন্য যে ও ফিরেছে এবং আমাদের দলেই খেলছে। তাকে দলে পাওয়া খুবই ভালো ব্যাপার।
বিপিএল ও এই টুর্নামেন্টের আবহের পার্থক্য: বিপিএলের আবহ অন্যরকম থাকে, এই টুর্নামেন্টের আবহ অন্যরকম। কারণ ওখানে অনেক সময় বড় বড় বিদেশি খেলোয়াড়ও থাকে। একই সাথে আমার এটাও মনে হয়, এটা খুবই ভালো টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে আমরা সবাই ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। আমি আমার দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। আমি আশা করি আমরা ভালো করতে পারব।
বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রসঙ্গে: তৃপ্তির কিছু নেই। অবশ্যই ভালো লাগে যখন আপনি কোন দলের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন। আমার মনে হয় এটা এখন অতীত। ওটা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে ছিল, এটা ভিন্ন ফরম্যাট। তো শুরুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় বিশ্বাস করি যেকোনো টুর্নামেন্টে শুরুটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আত্মবিশ্বাস আনার জন্য।
মুশফিকুর রহিম
টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে: আমরা তো সবাই চাই খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট হবে। এই বছরই প্রথম ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হবে, খুবই রোমাঞ্চিত। আশা করছি বেক্সিমকো ঢাকার হয়ে যেন খুব ভালো একটা শুরু করতে পারি এবং সেটা যেন শেষ করতে পারি।
ফাইনালে খেলা নিয়ে: আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে সেরা চার দলের একটি হওয়া। অবশ্যই তারপর যেন ফাইনালটা খেলতে পারি। এরপর যেটা বললেন লক্ষ্য তো হচ্ছে চ্যাম্পিয়নশীপ। সেদিকেই আমাদের লক্ষ্য আছে। আশা করছি শুরুটা যেন ভালো করতে পারি।
ঢাকার হয়ে খেলা প্রসঙ্গে: প্রথমবারের মতো ঢাকার হয়ে খেলব। সবারই স্বপ্ন থাকে এমন বড় বড় টিমে খেলার, বিশেষ করে ঢাকায়। আমি খুব ভাগ্যবান যে তারা এবার আমাকে নিয়েছে। আমি চেষ্টা করব প্রতিদান দেয়ার। অধিনায়কত্বের ব্যাপারটা অনেক সময় নির্ভর করে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কী চায় তার ওপর।
অধিনায়কত্ব নিয়ে: প্রেসিডেন্টস কাপ বা অন্যান্য সময় সংশ্লিষ্টরা মনে করেছেন তরুণদের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে ভালো হতে পারে। এখন তারা মনে করেছে যে আমি হয়তো সঠিক ব্যক্তি, যে গাইড করতে পারে। এই জন্যই দায়িত্ব নেয়া আসলে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ অধিনায়ক হিসেবে নাম্বার ওয়ান হওয়া। সেই চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। আমার টিমে যারা আছে তারা যদি সার্পোট করে, এটা অসম্ভব নয়।
সাকিবের ফেরা নিয়ে: এটা অবশ্যই বড় একটা বিষয়। কেবল আমি নই, আমার মনে হয় পুরো বিশ্ব ক্রিকেটই অপেক্ষা করছে। সে নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার এবং আমাদের সেরা খেলোয়াড়। আমাদের সঙ্গে ছাড়া যেন অন্য সবার সঙ্গে ভালো খেলে। আমার কাছে মনে হয়, শুধু আমি নই এটা পুরো টুর্নামেন্টের জন্যই বড় একটা পাওয়া। তার সঙ্গে এবং বিপক্ষে যেসব তরুণ খেলবে, তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। আমার মনে হয় এটা ভবিষ্যতেও খুব কাজে দেবে।
নাজমুল হোসেন শান্ত
সাইফউদ্দিনের অনুপস্থিতি: অবশ্যই সাইফউদ্দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল আমাদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হয়তো বা প্রথম ছয়-সাতদিন আমরা পাচ্ছি না তাকে। এরপর আরেকটা রিপোর্ট পাব। কিন্তু এটা নিয়ে আসলে খুব বেশি চিন্তা করার সুযোগ নাই। যেহেতু কালকে ম্যাচ। যেই দলই হবে, সেটা নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
প্রতিপক্ষ ও তাদের অধিনায়ক মুশফিক প্রসঙ্গে: মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটা ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ ছিল। অনেক কিছুই জানা আছে। আশা করছি যে যদি আমাদের বোলাররা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পারে, অবশ্যই মুশফিক ভাইকে তাড়াতাড়ি আউট করার মতো সক্ষমতা রাখে।
দলের ফিল্ডিং নিয়ে: সবাই সবার জায়গা থেকে ভালোভাবে প্রস্তুত। আমার কাছে মনে হয় সবাই ব্যক্তিগতভাবে নিজের ফিল্ডিং অনুশীলন নিয়মিত করে। আমার মনে হয় না খুব বেশি প্রভাব পড়বে। যেটা বললাম তরুণ ক্রিকেটারও অনেক আছে। সবদিক চিন্তা করলে কম্বিনেশন ভালো। মনে হয় না ফিল্ডিং সমস্যা হবে।
অধিনায়কত্ব নিয়ে: অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে এমনকি একজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব নিয়মিত পারফর্ম করা। অধিনায়কত্ব একটা আলাদা অংশ, ওটা যতটুকু দায়িত্ব পালন করার করব। পাশাপাশি আমার দায়িত্ব নিয়মিত পারফর্ম করা, রান করা। ওই জায়গায়টায় ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নজর দিচ্ছি কীভাবে ভালো রান করা যায়।
