হিউস্টন কনস্যুলেটে আশ্রয় নিয়েছেন পলাতক চীনা বিজ্ঞানী, দাবি করলো এফবিআই
হিউস্টনে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক মিশন বন্ধের সূত্রে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ উঠতির দিকে। হিউস্টন কনস্যুলেট বন্ধ করার তিনদিন সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার বেঁধে দেওয়ার পর, এবার দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা- এফবিআই জানিয়েছে, চীনা কূটনৈতিক মিশনটি পলাতক এক চীনা বিজ্ঞানীকে আশ্রয় দিয়েছে।
এফবিআই- এর তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তাং জুয়ান নামের ওই চীনা নারী বিজ্ঞানী নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হয়ে জীববিজ্ঞান গবেষণার কাজ করতেন। কিন্তু, তিনি সে বিষয়টি গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা গ্রহণ করেন। ইতোপূর্বে, তাকে এফবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সেসময় তিনি চীনা সামরিক বাহিনীর নিজের কোনো সম্পর্ক নেই, এমন মিথ্যে দাবি করেন। তারপর থেকেই তাং জুয়ান হিউস্টন দূতাবাসে গ্রেপ্তার এড়াতে আশ্রয় নেন।
এঘটনায় মার্কিন আদালতে তাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে জানানো হয়, সর্বপ্রথম গত ২৬ জুন ভিসা জালিয়াতির দায়ে তাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে এফবিআই। তাং ভিসা আবেদনের সময় চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক গোপন করলেও, মার্কিন তদন্তকারীরা চীনা সামরিক বাহিনীর বেসামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিহিত ছবি আবিষ্কার করেন। ওই সূত্রে তারা জানতে পারেন, ইতোপূর্বে তাং জুয়ান চীনা গণমুক্তি ফৌজের ফোর্থ মিলিটারি মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (এফএমএমইউ) একজন গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন।
গ্রেপ্তারের আগে গত ২০ জুন প্রথম চীনা এ বিজ্ঞানীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এফবিআই। ওই সময় তিনি জানান, তিনি সামরিক পোশাক বা সেখানে থাকা প্রতীকী চিহ্নগুলো সম্পর্কে অবহিত নন। সামরিক বাহিনী পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় তিনি সেখানে ওই পোশাক পড়েছেন, কারণ উপস্থিতির জন্য সেখানে ওই পোশাক পড়া বাধ্যতামূলক ছিল।
ওই জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনা বিজ্ঞানীর আবাসস্থল অনুসন্ধান চালায় এফবিআই। ওই সময় তারা তাংয়ের সঙ্গে চীনা সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক রয়েছে এমন আরও বেশকিছু তথ্য আবিষ্কার করেন।
এফবিআই'য়ের জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই চীনা দূতাবাসে আশ্রয় নেন তাং জুয়ান।
এবিষয়ে আরও জানতে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ এবং এফবিআই এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বার্তা সংস্থা সিএনএন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করে।
মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সামরিক বাহিনীর হয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের পরিচয় গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক কার্যক্রম চালু করেছে চীন। এর অংশ হিসেবেই এফএমএমইউ বা অন্যান্য সামরিক গবেষণা সংস্থায় কাজ করা চীনা বিজ্ঞানীরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
এদিকে এফবিআই জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এসব বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করার প্রমাণ তারা পেয়েছে। চীনা সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তারা এমন কাজ করেছেন।
জিন ওয়াং নামের সেই চীনা বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে গত ৭ জুন এমন সব অভিযোগেই মামলা দায়ের করে এফবিআই। গত মাসে লস এঞ্জেলস বিমান বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের চেষ্টার সময় জিন ওয়াংকে ভিসা জালিয়াতির দায়ে গ্রেপ্তার করা করা হয়। এসময়, তিনি চীনের তিয়ানজিনে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এরপরই চীনা কর্মকর্তারা অনুপ্রবেশকারী বিজ্ঞানীদের সকল প্রমাণাদি এবং নথিপত্র নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেন।
ওয়াং জিনের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে 'সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত' বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন চণা পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হুয়া চুনিং।
তিনি বলেন, ''আমি যতদূর জানি, তিনি একজন ফুসফুসের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানী। তিনি কিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থ বিপন্ন করতে পারেন, তা আমার বোধগম্য নয়।''
এসময় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক চীনা নাগরিককে গ্রাপ্তার ও হয়রানির শিকার করা হচ্ছে, বলেও জানিয়েছিলেন।
