শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনী দেশের মোট সম্পদের ৫৮.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে: অর্থনৈতিক টাস্কফোর্স

অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সদস্য ড. রুমানা হক বলেছেন, বাংলাদেশের মোট সম্পদের ৫৮.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছেন জনসংখ্যার শীর্ষ ১০ শতাংশ, যেখানে নিচের সারির মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র ৪.৮ শতাংশ সম্পদ। দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। ধনীদের আয়ও আরো বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত 'অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ' শীর্ষক সম্মেলনে একটি প্রবন্ধের উপস্থাপনায় এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনে 'সামাজিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য দুরীকরণ' সেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ড. রুমানা হক বলেন, আয়-বৈষম্য কমাতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সরকারকে জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিল্পায়ন, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) মূলত নগরবাসীদের সুবিধা দিয়েছে, অন্যদিকে ৮৫ শতাংশ জনশক্তি স্বল্প-মজুরির কাজে জড়িত, যাদের কর্ম-সুরক্ষা নেই।
গ্রামে মানসম্মত শিক্ষার সুবিধা না থাকায়— উপরের দিকে সামাজিক গতিশীলতা নেই। অন্যদিকে ভ্যাট কম আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর বোঝা হয়ে ওঠে।
তাই আয়বৈষম্য কমাতে তিনি অর্জিত সম্পদ ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ওপর ক্রমবর্ধমান হারে করারোপের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে কর ফাঁকি এড়াতে এবং তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া রোধে— আরও কঠোরভাবে রাজস্ব বিধিবিধানের প্রতিপালন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
মানসম্মত শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণের প্রসারের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্পের উদোক্তাদের সমর্থন দিতে তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন। রুমানা হক বলেন, বিশেষত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর শক্তিশালীকরণ, সর্বজনীন মৌলিক আয় প্রবর্তন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে সমর্থন করাকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সম্মেলনে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে নানান প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করে বলেন, এক্ষেত্রে গুচ্ছ বা ক্লাস্টার-ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন মনিটরিংয়ের জন্য একটি সুগঠিত রূপকাঠামো দরকার। কারণ এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবই হলো প্রধান সমস্যা।
তিনি বলেন, এপর্যন্ত যেসব আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অপর্যাপ্ত— এবং দারিদ্র্য দুরীকরণেও তা যথেষ্ট নয়। এখন আমরা ভাতা ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করব, নাকি পলিসি কাভারেজ বাড়াব? তবে আমরা মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছি।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি— তরুণদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) এর চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, আগের সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা অতিরঞ্জিতভাবে বাড়িয়ে দেখিয়েছিল। যেকারণে বেশিরভাগক্ষেত্রেই প্রকৃত দরিদ্ররা এর সুবিধা পাননি।
তিনি বলেন, "২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয়ের প্রক্ষেপণ করা হয় জিডিপির আড়াই শতাংশ বা বাজেটের ১৭ শতাংশ। তবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কর্মসূচি বাদ দিলে– এটি জিডিপির ১.২ শতাংশ ও বাজেটের মাত্র ৭ শতাংশ হয়।"