২৩% খরচ বাড়ানোর যে ব্যাখ্যা দিলেন বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোর মালিকরা

ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) ২৩ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ে বিজিএমএইর দেওয়া চিঠির জবাবে আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকডা জানিয়েছে, নিজেদের তহবিল হতে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা করা আইসিডিগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়।
সংগঠনটি আরও বলেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেসরকারি আইসিডিগুলোর অপারেশন ব্যয় বৃদ্ধিকে পুষিয়ে নিতেই ২৩ শতাংশ মাশুল সমন্বয় করা হয়েছে।
১৪ নভেম্বর বিজিএমইএ'র সভাপতিকে একটি চিঠি দেন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো এসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান।
সেখানে বলা হয়, "এটি মূল্যবৃদ্ধি নয়, এটি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেসরকারি আইসিডির মাশুলের সমন্বয়, যা অপরিহার্য । এই ব্যয় বৃদ্ধিকে নিজেদের তহবিল হতে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করে ব্যবসা করা আইসিডিসমূহের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভবপর নয়।"
এর আগে গত ১০ নভেম্বর বিজিএমইএ'র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম আইসিডির বর্ধিত চার্জ বাতিল করতে বিকডা সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, একতরফাভাবে হঠাৎ বিকডা কর্তৃক বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধির ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আদেশগুলো কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিজিএমইএর এ চিঠির জবাবে বিকডা সভাপতির দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রপ্তানি খাতে ট্রাক/কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাৎসরিক ব্যয় বৃদ্ধি ২৮৭ কোটি টাকা। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রপ্তানিকারকদের ফ্যাক্টরি হতে বেসরকারি আইসিডি পর্যন্ত রপ্তানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩০%। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পরে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী এক বছরে রপ্তানি পণ্যের ফ্যাক্টরি হতে বেসরকারি আইসিডি পর্যন্ত মোট ভাড়া বৃদ্ধি পাবে প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা। করোনা মহামারিতে শিপিং লাইনসমূহের ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০০ শতাংশ হতে ৫০০ শতাংশ। বাংলাদেশের বিগত ২০২০-২১ অর্থ বছরের রপ্তানি ভলিউমের বিবেচনায় এক বছরে মোট ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২৬ দশমিক ৩ কোটি ইউএস ডলার বা ৩৬ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, "বেসরকারি আইসিডির মাশুল সমন্বয়ের কারণে যখন সামগ্রিক রপ্তানি পণ্যের বিপরীতে বাৎসরিক ব্যয় ৫৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়, তখন ট্যারিফ কমিটি, সরকারি অনুমোদন ইত্যাদি বিষয় আপনাদের মূখ্য বিবেচনায় চলে আসে। বেসরকারি আইসিডির রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং চার্জের বড় অংশটাও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার তথা বিদেশী ক্রেতারা পরিশোধ করেন। তারপরও বেসরকারি আইসিডির এই ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি আলোচনা-সমালাচনার কেন্দ্রবিন্দুতে । বেসরকারি আইসিডি খাতের প্রতি এই বিমাতাসুলভ আচরণের কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।"