চার বছরের চুক্তিতে ফ্রান্সের নতুন কোচ হলেন জিনেদিন জিদান
ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। তিনি বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে জিদানের নাম ঘোষণা করেন ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ ডায়ালো। তিনি জানান, ৫৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে ফ্রান্স।
ফিলিপ ডায়ালো জিদানকে পাশে নিয়ে বলেন, 'এটি একটি ব্যতিক্রমী মুহূর্ত, কারণ আমার পাশে যিনি বসে আছেন তিনি ফরাসি ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি। অনেক বছর ধরেই তার স্বপ্ন ছিল ফ্রান্স দলের দায়িত্ব নেওয়া।'
২০২১ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর থেকে কোনো দলের দায়িত্ব নেননি জিদান। দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তার নাম শোনা যাচ্ছিল। নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত জিদান বলেন, 'আমার কাছে এটি একটি ধারাবাহিকতা, একটি স্বপ্ন পূরণের মতো। গত পাঁচ বছরে আমি অনেক ক্লাবের প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু ফ্রান্স দলের জন্য আমি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি শুধু এই একটি দায়িত্বই পেতে চেয়েছিলাম।'
নিজের প্রিয় দলের দায়িত্ব নেওয়াকে 'বিরাট আনন্দ' হিসেবে উল্লেখ করে জিদান বলেন, 'আমি অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি, তবে আমি চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। এটিই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আজ আমি এই দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং দলকে জেতাতে আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দেব। একইসঙ্গে আমি দিদিয়ের দেশমকেও তার অসাধারণ বছরগুলোর জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই।'
জিদানের এক সময়ের সতীর্থ দিদিয়ের দেশম দীর্ঘ ১৪ বছর ফ্রান্সের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে একটি মেধাবী ফুটবল প্রজন্ম তৈরি হয়। দেশমের কোচিংয়ে ফ্রান্স ২০১৮ বিশ্বকাপ জয় করে এবং ২০১৬ ইউরো ও ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। তবে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে এবং তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর পদত্যাগ করেন তিনি।
নতুন কোচ জিদানের অধীনে ফ্রান্সের পরবর্তী লক্ষ্য এখন উয়েফা নেশনস লিগ। এরপর আগামী বছর থেকে তারা ২০২৮ ইউরো বাছাইপর্বের অভিযান শুরু করবে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় জিদান তার ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি'অর এবং তিনবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম শিরোপা জেতানো এবং ২০০০ সালে ইউরো জয়ে তার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসরের পর কোচ হিসেবেও অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (২০১৬-২০১৮) এবং দুটি লা লিগা শিরোপা জয়ের অনন্য রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে। এখন নিজ দেশের ডাগআউটে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
