মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে উ.কোরিয়া-রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা, জাতিসংঘে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক ভোটিংকে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। গত সোমবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জরুরি ওই সভায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা কক্ষ ত্যাগ করেন।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর ভোটাভুটির সময় এই কূটনৈতিক বিবাদের সূত্রপাত হয়। ওই ভোটে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে মিলে টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। এই ঘটনার পর জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে এবং তাদের উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করে লেখে, 'যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা ছিল, কিন্তু এখন আর নেই।'
এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে, যিনি গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে 'লেকচার' দেন, অথচ তিনি নিজেই 'বিশ্বের নিকৃষ্টতম দমনকারী শাসকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।' তবে ওয়াল্টজ তার এই বক্তব্যের সপক্ষে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। উল্লেখ্য, ভলকার টুর্ক অতীতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া জানিয়েছেন, ফ্রান্স তাদের 'অহংকারী ও অসম্মানজনক বক্তব্য' প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। টুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের নিয়োগ ১৪৪টি দেশের ভোটে পাস হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এই ভোটাভুটি ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে এবং বহু সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
গত শুক্রবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস টুর্কের পুনর্নিয়োগের সমালোচনা করে বলেন, 'যারা পদ্ধতিগত অনিয়ম, গোপন আঁতাত এবং জাতিসংঘের পদের অপব্যবহার সহ্য করে, তাদের এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করতে হবে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সম্পৃক্ততা এবং তহবিল প্রদানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।'
তবে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট ভলকার টুর্ককে 'বিবেকের কণ্ঠস্বর' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, টুর্ক তার প্রথম মেয়াদে 'দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা'র পরিচয় দিয়েছেন। এই পুরো ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘ উপ-মুখপাত্র ফারহান হক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল বলেছেন, জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে সব সদস্য রাষ্ট্র সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে।
