ইরাকে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে সৌদি-মার্কিন যৌথ হামলা
ইরাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর যৌথ হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার চালানো এই হামলায় তাদের আটজন সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ইরান-সমর্থিত 'সন্ত্রাসী মিলিশিয়া'রা তাদের রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, 'তারা কোনো উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।'
এই হামলার নিন্দা জানিয়ে পিএমএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে তিনি সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইরাকি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'বন্ধুত্বপূর্ণ বা ভ্রাতৃপ্রতিম কোনো দেশের বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ডকে আক্রমণের পথ বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হতে না দেওয়ার বিষয়ে ইরাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এদিকে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মোর্চা 'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক' সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা সৌদি দাবিকে 'বানোয়াট' বলে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে গোষ্ঠীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, 'সৌদি আরবের যেকোনো বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।'
