‘টেকনিক্যাল কিংবা ট্যাকটিক্যাল—কোনো দিকেই পরিকল্পনামতো খেলতে পারিনি’: স্পেনের কাছে হারের পর এমবাপ্পে
ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, কৌশলগত ও কারিগরি ভুলের কারণেই তার দল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ডালাসে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে 'লে ব্লু'দের বিদায় নিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে এমবাপ্পে—যিনি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলছিলেন—জানিয়েছেন, ম্যাচে ফ্রান্সের পারফরম্যান্সে তিনি গভীরভাবে হতাশ।
ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এম সিক্সকে এমবাপ্পে বলেন, 'আমি মনে করি না আমরা সেই ম্যাচটি খেলতে পেরেছি, যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম—তা কৌশলগত দিক থেকেই হোক, কারিগরি দিক থেকেই হোক, কিংবা আমাদের সামগ্রিক খেলার মানের বিচারেই হোক।'
তিনি আরও বলেন, 'আর যখন আপনি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজের করণীয় কাজটাই ঠিকভাবে করতে পারবেন না, তখনই আপনি জিততে পারবেন না।'
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিপক্ষের মাঠের দিকেই তাদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা তাদের ধীর, নিয়ন্ত্রিত ছন্দে খেলতে না পারে। কারণ খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছি।'
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শেষ চারে ওঠার পথে এমবাপ্পে ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা। ধারাবাহিকভাবে গোল করা আক্রমণভাগের অগ্রভাগে খেলতে নেমে তিনি আটটি গোল করেন এবং তার পারফরম্যান্স বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
কিন্তু সাতাশ বছর বয়সী এই তারকার আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন হঠাৎই থেমে যায়, যখন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে স্পেন পুরো ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সকে ছাপিয়ে যায়।
'প্রচণ্ড হতাশ'
এমবাপ্পে মনে করেন, মূল সমস্যা ছিল মাঝমাঠে। সেখানে ফ্রান্সের দুই খেলোয়াড় আদ্রিয়াঁ রাবিও ও অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি খুব দ্রুতই স্পেনের তিন মাঝমাঠের খেলোয়াড় রদ্রি, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইসের কাছে চাপে পড়ে যান।
এমবাপ্পে বলেন, 'মাঝমাঠে আমাদের বারবার তিনজনের বিপক্ষে দুইজনকে লড়তে হচ্ছিল। আর স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এটি সত্যিই বড় সমস্যা... সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করলে ফলাফল দাঁড়ায় পরাজয়। এটি অত্যন্ত বড় একটি হতাশা।'
এমবাপ্পে বলেন, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ফ্রান্সের ভেঙে পড়া খেলোয়াড়েরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, 'ফাইনালে ওঠা ছিল আমাদের স্বপ্ন। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের দেশকে আবারও স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিতে এবং ইতিহাস গড়তে।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন আমাদের এই বাস্তবতাকে মাথা উঁচু করেই মেনে নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, আপনি যখন জয় পান, তখন মাথা উঁচু করেই জয় উদযাপন করেন। তাই যখন হারবেন, তখনও মাথা উঁচু করেই হার মেনে নিতে হবে।'
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা ভীষণ হতাশ। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি এবং পুরো দল ঠিক কতটা হতাশ। তবুও, বিষয়টি অনেক সময় যান্ত্রিক মনে হলেও, আমাদের আবার নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে, ছুটিতে যেতে হবে এবং জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে, এই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে দিতে হবে এবং এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।'
