‘এটি মেডেলের মতোই মূল্যবান’: বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসির বলা গোপন কথা জানালেন ইয়ামাল
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয় শুধু 'লা রোহা'র জন্য ঐতিহাসিক অর্জনই নয়, ফুটবল বিশ্বের কাছেও এটি ছিল এক প্রতীকী মুহূর্ত। একই মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিলেন বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনে বেড়ে ওঠা দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ শেষ করে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জেতেন ইয়ামাল। তবে তার কাছে ফাইনালের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল না ম্যাচ চলাকালীন, বরং শেষ বাঁশি বাজার পর বিজয় উদযাপনের সময়।
ট্রিবিউনা প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, কয়েক বছর আগেও তিনি কল্পনা করতে পারেননি যে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে নিজের শৈশবের আদর্শ লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলবেন।
'কয়েক বছর আগে যদি কেউ আমাকে বলত, লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলে আমি বিশ্বকাপ জিতব, তাহলে আমি তাকে পাগল ভাবতাম।'
ফাইনাল শেষ হওয়ার পর দুই দলের আবেগ তখনও তুঙ্গে। সেই সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসির কাছে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিজের শ্রদ্ধা জানান ইয়ামাল।
তিনি বলেন, 'তিনি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার এবং এমন একজন, যাকে আমি সবসময় অনুসরণ করেছি। ম্যাচ শেষে আমি তাকে আমার শ্রদ্ধার কথা জানাতে চেয়েছিলাম।'
মাঠে সংক্ষিপ্ত সেই আলাপচারিতায় মেসি এমন কিছু কথা বলেন, যা সারাজীবন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন ইয়ামাল।
স্প্যানিশ এই তরুণের ভাষ্য অনুযায়ী, মেসি তাকে বলেন, '"নিজের পথেই এগিয়ে যাও। ভবিষ্যৎ তোমাদের প্রজন্মের।" এই কথাগুলো আমার গলায় ঝুলে থাকা মেডেলের মতো মূল্যবান।'
তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সমর্থক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম—অনেকেই মেসির বিনয় এবং ইয়ামালের শ্রদ্ধাবোধের প্রশংসা করেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই মুহূর্তকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। অনেকের মতে, ফাইনালে হারের হতাশা নিয়েও একজন তরুণ প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন ও অনুপ্রেরণা জানিয়ে মেসি আবারও নিজের ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
আবার অনেকেই এই মুহূর্তকে দেখছেন প্রতীকী 'ব্যাটন হস্তান্তর' হিসেবে। এক যুগে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা মেসির কাছ থেকে আগামী দিনের সম্ভাব্য তারকা ইয়ামালের দিকে যেন নেতৃত্বের বার্তা পৌঁছে গেছে।
মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্ক নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ তাদের বার্সেলোনা-সংযোগ। কয়েক বছর আগে প্রকাশ্যে আসা সেই বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায়, শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে আছেন মেসি। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইয়ামালের ক্যারিয়ার ভক্তদের কাছে আরও বেশি আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, আক্রমণে নির্ভীক মানসিকতা, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতায় ইয়ামালের মধ্যে ক্যাম্প ন্যুতে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের মেসির কিছুটা ছায়া দেখা যায়। ফলে স্প্যানিশ এই তরুণকে ঘিরে প্রত্যাশাও দিন দিন বাড়ছে।
স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর ইয়ামাল দেশে ফিরছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। তবে ট্রফির পাশাপাশি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন শৈশবের আদর্শের দেওয়া এমন একটি উপদেশ, যেটিকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম মূল্যবান প্রাপ্তি মনে করেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে ফুটবল যখন নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে, তখন মেসির সেই কথাগুলোও যেন নতুন করে অর্থ খুঁজে পাচ্ছে। ইয়ামালের হাতে এখন বিশ্বকাপের ট্রফি, তবে আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেওয়ার পথচলা তার জন্য কেবল শুরু।
