মাসেকোর গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার 'এ' গ্রুপের লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। বাফানা বাফানাদের এই ঐতিহাসিক জয়ের রূপকার থাপেলো মাসেকো।
এই জয়ের সুবাদে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক কানাডা।
অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেক্সিকো।
তবে হারলেও বিশ্বকাপ থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছে না দক্ষিণ কোরিয়া। তিন পয়েন্ট নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে তাদের সামনেও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেললেও কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে চেনাল তারা।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য আধিপত্য ছিল এশীয় জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়ার। দলের সবচেয়ে বড় তারকা সন হিউং-মিনকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেই একাদশ সাজিয়েছিলেন কোরিয়ান কোচ। তবে সনের অভাব শুরুতে বুঝতেই দেননি তার সতীর্থরা।
ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কোরিয়া। কিম মিন-জের দুর্দান্ত একটি হেড গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাঁচান অব্রে মোদিবা।
পরে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯ মিনিটে একটি থ্রু বল পেয়ে মাসেকো দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলেও, লি কি-হিউকের দুর্দান্ত ট্যাকলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় কোরিয়া।
এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ অসাধারণ ডাবল সেভ করে দলকে বাঁচান। প্রথমে থালেন্টে এমবাথার শট ঠেকানোর পর এভিডেন্স মাকগোপার ফিরতি শটটিও রুখে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব একটা আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায়নি। তবে মাসেকোর একটি নিখুঁত ফিনিশিংই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
৬৩তম মিনিটে শেপাং মোরেমির একটি মাপা পাস থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মাসেকো। এই একটি গোলেই শেষ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সৃষ্টি করে বাফানা বাফানারা।
