মা এসে গেছেন! অবশেষে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হলো
বিশ্বকাপ ছেলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মা আনা ক্যান্ডিডা ইভোরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার পর শুক্রবার তিনি মিয়ামিতে এসে পৌঁছেছেন। এর ফলে রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে ছেলের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসেই দেখতে পারবেন তিনি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চমকে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। কিন্তু ম্যাচ শেষে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তার মা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ভোজিনহার সেই আবেগঘন বার্তার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার মা আনা ক্যান্ডিডা ইভোরাকে ভিসা দেয়। এরপর কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া থেকে মিয়ামিতে উড়ে আসেন তিনি।
ফুটবলেই মনোযোগ ভোজিনহার
মা অবশেষে সরাসরি তার খেলা দেখতে পারবেন জেনে দারুণ আনন্দিত ভোজিনহা। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এখন তার পুরো মনোযোগ কেবল ফুটবলেই। কারণ, উরুগুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচটি জিতলে কেপ ভার্দে নকআউট পর্বের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা যায় ইভোরাকে। এ সময় তিনি হাসিমুখে ফিফার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ঝোলানো কর্মীদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
যাওয়ার আগে তিনি শুধু বলেন, 'আমি তাকে শুভকামনা জানাতে চাই এবং আশা করি সে একটি ভালো ম্যাচ খেলবে।'
তবে তিনি সরাসরি পাঁচ ঘণ্টার গাড়ি চালিয়ে টাম্পায় (যেখানে তার ছেলে আছেন) যাবেন, নাকি রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্পেনের বিপক্ষে সেই রাত
স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ কিছু সেভ করে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠেছেন এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষক।
তবে ম্যাচ শেষে তার কান্না ভেজা সেই কথাগুলো তাকে আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, যাদের কাছে তিনি বড় হয়েছেন, সেই দাদা-দাদি আর বেঁচে নেই। আর তার মা-ও ভিসা না পাওয়ায় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে পারেননি।
ভোজিনহার এই কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতি জানান।
