ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান খেলতে রাজি হওয়ায় ১৭৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি থেকে বাঁচল আইসিসি
কলম্বোয় আজ এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। তবে এই ম্যাচ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে ছিল তীব্র অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান যদি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই ম্যাচ বয়কট করত, তবে সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপ মিলিয়ে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতি হতো প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কলম্বোগামী বিমানের টিকিটের জন্য হাহাকার শুরু হয়। মুম্বাই–কলম্বো–মুম্বাই রাউন্ড ট্রিপের ভাড়া মুহূর্তেই ১০ হাজার রুপি বেড়ে ৬০ হাজার রুপিতে পৌঁছায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের ম্যাচ সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখার উন্মাদনাই এই দাম বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এরপরই বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পিসিবি।
তবে শেষ পর্যন্ত 'বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর' অনুরোধে এবং শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আইসিসির প্রতিনিধিদের মধ্যে পর্দার আড়ালের দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতার পথ খুঁজে পাওয়া যায়। এর পরই পাকিস্তান সরকার তাদের দলকে এই ম্যাচে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। ফলে নিশ্চিত লোকসানের হাত থেকে বেঁচে যায় আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বিসিবির অনুরোধ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা। গত সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) অনুরোধ জানায়, যেন তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলে। বিবৃতিতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন রাজা নাকভির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গত রোববার পাকিস্তান সফরে যান। দেশে ফিরে তিনি বলেন, 'ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা অনুরোধ করেছি, পাকিস্তান যেন ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে।' তার সফরের পরই পাকিস্তান সরকারের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়।
ক্রিকেটীয় আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যায়েও তৎপরতা চলে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানায়, 'বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর অনুরোধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হওয়ায় পাকিস্তান দলকে ম্যাচে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
