সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ কি তৈরি করা গেছে?
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, মানুষের মধ্যে সহিংসতার আশংকা ততো বাড়ছে। কখন, কোথায় গোলযোগ শুরু হবে, কোথায় মারপিট হবে তা আগে থেকে কেউ বলতে পারছে না। কিন্তু ভোটগ্রহণ, ভোটগণণা ও ফলাফল ঘোষণার সময় কে কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে, তা ভেবেই একটা শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
মানুষের এই শঙ্কার মধ্যেই শুরু হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও চলে সড়ক অবরোধ, যানজট, পুলিশের লাঠিচাজ, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ইত্যাদি। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ২০ জন আহত হওয়ার কথা বলছে সংগঠনটি। আন্দোলনকারীরা হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আমরা জানি না এই পরিস্থিতি কত দিন চলবে। এদিকে, চার দিন পরেই নির্বাচন। গোলযোগপূর্ণ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?
মানুষ আবার নতুন করে আতঙ্কিত হচ্ছে। মানুষের আশঙ্কারই পুনরাবৃত্তি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচনের তারিখ যত সামনে আসছে, দেশের রাজনীতির মাঠ ও নির্বাচনী পরিবেশ ততই সহিংস হয়ে উঠছে। গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, নিহতের সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বরে দেশে মোট ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ২৬৮ জন আহত হন। তবে গত জানুয়ারিতে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। এই এক মাসে মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ এবং আহত হয়েছেন ৬১৬ জন। ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১১ দিনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার (২২ জানুয়ারি) পর সহিংসতা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র ১১ দিনে ৪৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে ৪ জন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন। (আসক)
শুধু মানবাধিকার সংস্থা নয়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি। সহিংসতার তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ সহিংসতা হয়েছে নির্বাচনী অফিস ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে। এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২০টি।
তাহলে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ কেন শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। নির্বাচনী ডামাডোলের সাথে রয়েছে মব ভায়োলেন্স, হত্যা, রাহাজানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাজার-মন্দির ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ এবং আত্মহত্যার ঘটনা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এক বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১২১ জন। রাজনৈতিক সংঘাতের ৯২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত ছিল বিএনপি।
একই ধরণের তথ্য দিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। অন্তবর্তী সরকারের ১৩ মাসে (সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫) দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৫০ জন। শুধু বিএনপির অন্তঃকোন্দলে নিহত হয়েছেন ৮৫ জন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৭ জন।
নির্বাচনে বিএনপি লড়ছে এবং এই লড়াইয়ে যদি জয়ী হয়, তাহলে তারাই সরকার গঠন করবে। কিন্তু প্রাক-নির্বাচনী পরিস্থিতিতে দলটি যদি এভাবে মারামারি ও রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়ে, তাহলে খুবই আশঙ্কার কথা দলটির জন্য এবং জনগণের জন্য। বিএনপি'র নয়া নেতৃত্ব বারবার সংযমের কথা বলছেন, কিন্তু বাস্তবচিত্র দেখে মনে হচ্ছে না নেতা-কর্মীরা সংযমের সেই পথে আছেন।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএসের তথ্যমতে, গত ১৩ মাসে অন্তত ১ হাজার ৪৭টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশকেন্দ্রিক সংঘর্ষ, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল—এসব কারণেই অধিকাংশ সহিংসতা ঘটেছে। কার সাথে কার কোন্দল বা মারামারি এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না গেলেও বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা দখল নিয়ে এই সংঘাত।
সবাই ভেবেছিল আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি অন্যরকম হবে। অন্তবর্তী সরকার কঠিন হাতে সব নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। জুলাই আন্দোলনের দলগুলোই এখন পরস্পর বিবাদমান। কে, কার আগে থাকবে এই প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে শুধু জাতীয় রাজনীতিতে নয়, ছাত্ররাজনীতিতেও সহিংসতা চলছে।
এ সময়ে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৭১টি ঘটনায় ১২০ জন নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক কার্যালয়, বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে সাত হাজারের বেশি। কেন এমন হচ্ছে? এমন হওয়ার কি কথা ছিল?
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন কিছু বড় ধরণের সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে। যেমন—ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, সুধা সদন ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতাদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, গোপালগঞ্জে এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা'কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে যুবদলের কর্মী নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা। গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, ইনকিলাব মঞ্চের হাদির মৃত্যু, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটে অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর।
এইচআরএসএস মনে করে, গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা না ঘটলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, কারাগারে মৃত্যু, সভা-সমাবেশে বাধাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, "মব ভায়োলেন্স বলতে কোনোকিছু নেই। পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না।" অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে গত ১৭ মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৯৫ জন এবং মব সহিংসতা ও গণপিটুনীতে ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এইচআরএসএস।
আসকের মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০২৫ বলছে 'মব সন্ত্রাসে' হত্যা ২০২৪ এর চেয়েও বেড়েছে। গণপিটুনি বা 'মব সন্ত্রাসের' শিকার হয়ে প্রাণ গেছে ১৯৭ জনের। কোনো ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, সন্দেহ, গুজব সৃষ্টি করে মানুষকে মারধর ও হত্যা করা হয়েছে।
আমরা দেখেছি অপরাধীদের কত বড় দুঃসাহস যে পুলিশকেও গণপিটুনির ভয় দেখায়! মার্চ ২০২৫ এর প্রথম ৬ মাসে পুলিশের ওপর ২২৫টি মব হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। মব সন্ত্রাসীদের সাহসের উৎস কী? কে তাদের রক্ষা করছে? তাদের কোনো ব্যক্তি রক্ষা করছে না, বরং তাদের শেল্টার দিচ্ছে দুর্বল আইনী ব্যবস্থা। যদি বলি সরকার এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অ্যাকশন নেয়নি, তাও খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না।
তৌহিদি জনতার নামে বেআইনিভাবে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, এমনকি কবর থেকে তুলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধ মতের মানুষকে নানাভাবে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে কমপক্ষে ১০৭ জন দেশের বিভিন্ন কারাগারে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৬৯ জন হাজতি এবং কয়েদি ৩৮ জন।
কমপক্ষে ৩৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, নির্যাতনে, কথিত 'গুলিতে' বা 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে। (সূত্র: আসক)।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেশাদার অপরাধী ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও মব তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। পুলিশের উপর এধরণের সংঘবদ্ধ হামলা খুবই ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনবে।
আমরা শুধু ভাবছি চলমান এই রাজনৈতিক সহিংসতা যদি আরও বিস্তৃত ও সহিংসতর হয়ে উঠে, তাহলে যে বা যারা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে বাধ্য। বিশৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি একবার সৃষ্টি হয়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরিতে সংকট দেখা যাবে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সহনশীলতার সংকটের প্রতিফলন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীরা আইনকে অবজ্ঞা করলে, পুলিশকে ভয় না পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে উঠবে। পুলিশের হাত থেকে অপরাধী ছিনিয়ে নেওয়াও চলছে। পুলিশের হেফাজতে থাকার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছে। দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীন পরিবেশে উদ্বিগ্নবোধ করছেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক জরিপে উঠে এসেছে, মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের হার ৮০ শতাংশ। উত্তরদাতাদের মধ্যে উচ্চমধ্যবিত্ত ও বিত্তবানেরা ছিলেন না, মতামত দিয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত সবখানে সহিংসতার ভীতি গেড়ে বসেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই ভয় দূর করা না গেলে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না, চেষ্টা করেও তা করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো না গেলে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে না পারলে, নতুন সরকারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে।
নির্বাচন পার হওয়ার পর অবশ্যই বিদ্বেষজাত অপরাধ বা 'হেইট ক্রাইম' ঠেকাতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে দেওয়া বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার পরেই জনতা ছুটে যায়, সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, সাম্প্রদায়িক চিন্তা সব পেছনে ফেলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ব্রত নিতে হবে। কাজেই দেশ পরিচালনা করার জন্য অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে। তবে সবচেয়ে আগে এবং এখনই দরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করা।
লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।
