‘বহুগামী পেশা’: বসের অগোচরেই একসঙ্গে একাধিক ফুলটাইম চাকরি!
মহামারির পর কর্মক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নতুন এক পরিভাষা—'পলিগ্যামাস ওয়ার্কিং' বা 'বহুগামী পেশা'। নাম শুনেই চমকে ওঠার মতো অবস্থা। তবে এর সঙ্গে বহুবিবাহের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এর কারবার পুরোটাই চাকরি নিয়ে। বসের চোখে ধুলো দিয়ে গোপনে একই সঙ্গে একাধিক ফুলটাইম চাকরি চালিয়ে যাওয়ার নামই দেওয়া হয়েছে 'বহুগামী পেশা'।
বিষয়টি ঠিক কী, তা নিয়ে একটি কাল্পনিক প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: বহুবিবাহ বা 'পলিগ্যামি'র কথা শুনেছি, কিন্তু সেখান থেকে যে টাকা আয় করা যায় তা জানা ছিল না!
উত্তর: আরে না! এর সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি হলো একজনের একাধিক চাকরি করার একটি পোশাকি নাম।
প্রশ্ন: আপনি কি 'মুনলাইটিং'-এর কথা বলছেন?
উত্তর: না, ঠিক তা নয়। 'মুনলাইটিং' মানে হলো সংসার খরচ মেটাতে মূল চাকরির পাশাপাশি রাতে বা অবসর সময়ে দ্বিতীয় কোনো কাজ করা।
প্রশ্ন: তাহলে কি এটি 'সাইড হ্যাসেল'?
উত্তর: তাও নয়। 'সাইড হ্যাসেল' সাধারণত ফ্রিল্যান্স বা স্বাধীন কাজ, যা মানুষ নিজের সুবিধামতো সময়ে বাড়তি আয়ের জন্য করে থাকে।
প্রশ্ন: আর যদি কাজ করে কোনো টাকা না পাওয়া যায়?
উত্তর: তাহলে সেটি শুধুই শখ বা হবি।
প্রশ্ন: তাহলে 'পলিগ্যামাস ওয়ার্কিং' বিষয়টা আসলে কী?
উত্তর: এর মানে হলো বর্তমান নিয়োগকর্তা বা বসকে বিন্দুবিসর্গ না জানিয়ে গোপনে একসঙ্গে দুটি বা তার বেশি ফুলটাইম চাকরি করা।
প্রশ্ন: অফিসে অর্ধেক সময় না থাকলে তো ধরা পড়ে যাওয়ার কথা!
উত্তর: পুরোনো দিনে হলে হয়তো তা-ই হতো। কিন্তু এখন 'হাইব্রিড' এবং 'রিমোট ওয়ার্কিং' বা বাসা থেকে কাজের সুযোগ বাড়ায় পলিগ্যামাস ওয়ার্কিং সহজে ধরা পড়ে না।
প্রশ্ন: যদি কেউ বুঝতেই না পারে, তবে সমস্যা কোথায়?
উত্তর: এমনিতে দুটি চাকরি করার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আইন নেই। তবে কিছু পরিস্থিতিতে একে 'জালিয়াতি' বা 'ফ্রড' হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। আর জালিয়াতির বিরুদ্ধে অবশ্যই আইন আছে।
প্রশ্ন: আমি কীভাবে বুঝব এটা বৈধ কি না? আপনি কি নিয়োগ চুক্তি বা এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্ট সই করেছেন?
উত্তর: সই তো করেছি, কিন্তু অত বড় কাগজ কি আর পড়ে দেখেছি!
(সেখানেই তো গলদ। চুক্তিতে হয়তো স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে পারে যে এখানে থাকাকালীন অন্য কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া যাবে না। অথবা সরাসরি নিষেধও থাকতে পারে। কিংবা গোপনীয়তার এমন সব শর্ত থাকতে পারে, যার কারণে অন্য চাকরি করাটা কার্যত অসম্ভব।)
প্রশ্ন: কাজও হচ্ছে, টাকাও আসছে—এতে তো কারও ক্ষতি নেই। একে কি আসলেই অপরাধ বলা যায়?
উত্তর: আসলেই কি তাই? গত মাসেই এক নারী জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বার্নেট কাউন্সিল এবং ক্রয়ডন কাউন্সিলে গোপনে একসঙ্গে দুটি ফুলটাইম চাকরি করছিলেন।
প্রশ্ন: এ তো সাংঘাতিক কাণ্ড! তিনি তো করদাতার টাকা চুরি করছেন!
উত্তর: ঠিক তাই। সরকারি বা পাবলিক সেক্টরে এমন পলিগ্যামাস ওয়ার্কিং ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের 'ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ' (এনএফআই) এখন কর্মীদের বেতন এবং পেনশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা শুরু করেছে।
প্রশ্ন: এই প্রবণতা কতটা ছড়িয়েছে?
উত্তর: সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। এনএফআই গত অর্থবছরে এমন ১৩টি ঘটনা হাতেনাতে ধরেছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে এর ব্যাপ্তি বোঝা যায়। যেমন 'রেডিট'-এর 'ওভারএমপ্লয়েড' গ্রুপে পলিগ্যামাস কর্মীরা নিয়মিত টিপস শেয়ার করেন—কীভাবে ধরা না পড়ে একাধিক কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়।
প্রশ্ন: সত্যি বলতে, আমি তো একটা ফুলটাইম চাকরি করতেই হিমশিম খাই। সেখানে দুটো চাকরি করার কথা ভাবতেই পারি না!
উত্তর: দুটো তো কিছুই না। জুলাই মাসে এক ব্যক্তি জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কারণ তিনি গোপনে একসঙ্গে চারটি চাকরি করছিলেন!
ধরা পড়লে বাঁচার উপায়: খুব গম্ভীর মুখে দার্শনিক ভাব নিয়ে বলবেন, 'বস, হাইব্রিড মডেলে কাজের তো অনেক সুবিধা, তবে দুর্ভাগ্যবশত এটি তার একটি নেতিবাচক দিক!'
খবরদার, যা ভুলেও বলবেন না: 'বস, বিশ্বাস করুন, আমি বাসা থেকে কাজের নাম করে অন্য চাকরি করছিলাম না। আমি তো আসলে তখন পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম!'
