রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার পর ‘প্রশাসনিক কারণে’ শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার দুই দিন পর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর করা এক আদেশে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
প্রত্যাহারে আদেশের পর ওসি জাহাঙ্গীরকে টিবিএসের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে সাড়া পাওয়া যায় নি।
এর মধ্য দিয়ে গত এক মাসে ঢাকার বিভিন্ন থানার একাধিক ওসিকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটল। এসব ঘটনায় কোথাও প্রশাসনিক কারণ দেখানো হলেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা কিংবা কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
সবশেষ শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হলো। এর মাত্র দুই দিন আগে ওই থানার আওতাধীন মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমই গণমাধ্যমকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিলেন।
তবে তার প্রত্যাহারের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য ডিএমপির আদেশে উল্লেখ নেই। আদেশে কারণ হিসেবে শুধু 'প্রশাসনিক কারণ' বলা হয়েছে।
গুলশান: কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের মিছিলের পর ওসি প্রত্যাহার
গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানায়। ওই ঘটনার পরই গুলশান থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
একই ঘটনায় গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমদকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়টি প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ক্যান্টনমেন্ট: ভাইরাল অডিওর পর ওসি প্রত্যাহার
১৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়। ডিএমপি কমিশনারের স্বাক্ষর করা আদেশে তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। কারণ হিসেবে প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
পরে ২৪ সেপ্টেম্বর ওই ওসিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিএমপি জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
খিলগাঁও: অভিযোগের মধ্যে অন্য ইউনিটে বদলি
২১ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকেও থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তাকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত না করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় ডিবি তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ওসি করা হয়।
শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'শ্যোন অ্যারেস্ট' বাণিজ্য, অপরাধীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের মতো অভিযোগ ওঠার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা বা বদলির সঙ্গে অভিযোগগুলোর সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে ডিএমপির আদেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
