হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রেখে ইরানকে ট্রল করলেন ট্রাম্প
নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবের পর, কৌশলগত এই নৌপথটিকে 'ট্রাম্প প্রণালি' আখ্যা দিয়ে ইরানকে কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার ভোরে 'ট্রুথ সোশাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি মানচিত্রের ছবি শেয়ার করেন, যেখানে নৌপথটির নাম বদলে নিজের নামে চিহ্নিত করতে দেখা যায়।
চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যুদ্ধবিরতিসহ একটি সাত দিনের পরিকল্পনা পেশ করার পরই ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ সামনে এলো। ওয়াশিংটনের জন্য দেওয়া এসব শর্তের বেশির ভাগই জুন মাসের ভেস্তে যাওয়া চুক্তিতে সম্মত হওয়া শর্তগুলোরই অনুরূপ।
তারা জানায়, তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় খুলে দেবে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তেল বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করে এবং লেবাননসহ একটি যুদ্ধবিরতি মেনে চলে।
ইরানি বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করা হলে তেহরান আরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করার সুযোগ পাবে; আর এটি দেশটির অর্থনীতিকে এমন এক সময়ে সহায়তা করবে যখন তাদের মুদ্রার মান রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি জানান, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অঞ্চলে চলমান সংঘাত সাময়িক বিরতির জন্য সাত দিনের একটি কাউন্টডাউন বা সময় গণনা শুরু করবে। তিনি বলেন, 'চুক্তি করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন পক্ষের যদি সদিচ্ছা থাকে, তবে সব প্রস্তুতি এখন সম্পন্ন।'
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে "গঠনমূলক আলোচনায়" নিযুক্ত রয়েছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইরান তার দাবিগুলো পূরণ করবে কি না সে বিষয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব নামকরণ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের শনিবারের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টটি ছিল সর্বশেষ উদাহরণ। চলতি মাসের শুরুর দিকেও তিনি ট্রুথ সোশ্যালে নিউ মেক্সিকোর একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন, যেখানে 'মেক্সিকো' শব্দটি কেটে দিয়ে তার জায়গায় 'আমেরিকা' বসিয়ে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্যটির নাম বদলে 'নিউ আমেরিকা' রাখাটা তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের কথা মনে করিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে তিনি 'মেক্সিকো উপসাগর'-এর নাম পরিবর্তন করে 'আমেরিকা উপসাগর' রেখেছিলেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে 'আমেরিকান গ্রেটনেসকে সম্মান জানাতে নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা' শিরোনামের সেই নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আলাস্কার 'ডেনালি'র নামও পরিবর্তন করে ফের 'মাউন্ট ম্যাককিনলি' করেন।
আমেরিকার ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো সেখানেই থেমে থাকেনি। কানাডার সাথে তীব্র হতে থাকা বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই গত মাসের শেষের দিকে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে প্রেসিডেন্ট 'লেক অন্টারিও'র নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখেন।
কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিষয়টি ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দেওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, 'তারা মনে করে তারা একটি অঙ্গরাজ্য, কিন্তু তারা কোনো অঙ্গরাজ্য নয়। আমরা কেন কানাডাকে ভর্তুকি দিতে যাব?'
