হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ আদালতের
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলামের হংকংয়ে থাকা সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানাধীন কোম্পানি 'চায়না সুপ্রিম লিমিটেড'-এর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ও কোম্পানির নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ফ্রিজ বা ব্লক করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্তকারী দলের (জেআইটি) টিম লিডার ও উপপরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে এ আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে পাচার ও স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার দুই সন্তানকে 'চায়না সুপ্রিম লিমিটেড'-এর চূড়ান্ত সুবিধাভোগী মালিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোম্পানিটির ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেডে একটি সক্রিয় হিসাব রয়েছে।
দুদক আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই ওই কোম্পানিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি হংকংয়ে কেনা সম্পদের তথ্য এনবিআরের কাছে দাখিল করা আয়কর রিটার্নেও প্রকাশ করা হয়নি।
নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ আগস্টে করা একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।
এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নজরুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
পাচার করা অর্থের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ স্থানান্তর বা বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় তা দ্রুত জব্দের প্রয়োজন বলে আদালতে জানায় দুদক। এ জন্য হংকংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিল সংস্থাটি।
