বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাক টু ব্যাক এলসি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার আহ্বান অ্যাকসেসরিজ খাত সংশ্লিষ্টদের
ব্যাক টু ব্যাক এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) নথিপত্র ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যাসোসিয়েশন (সিজিএএ)।
সংগঠনটির মতে, বারবার অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হয় এবং এর ফলে শতভাগ প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের কার্যকরী মূলধনের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে সই করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিল আহমেদ।
সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকেরা এলসির প্রয়োজনীয় সব নথি তৈরি করলেও অনেক সময় সেগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে পারেন না। প্রথমে নথিগুলো গার্মেন্টস কারখানায় পাঠাতে হয়। সেখানে অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির সই বা 'পার্টি অ্যাকসেপ্ট্যান্স' নেওয়ার পরই সেগুলো কারখানা থেকে ব্যাংকে পাঠানো হয়। এরপর অর্থ পরিশোধ বা এলসির মেয়াদপূর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগে ব্যাংক নথিগুলো আরেক দফা অনুমোদনের জন্য কারখানায় ফেরত পাঠাতে পারে।
সংগঠনটি বলছে, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও ব্যাংকগুলোর মধ্যে নথিপত্রের বারবার আদান-প্রদানের ফলে প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হয়। এছাড়াও দ্বৈত যাচাই ও অনুমোদন, অর্থপ্রদান বা মেয়াদপূর্তিতে বিলম্ব, কার্যকরী মূলধন আটকে যাওয়া এবং নগদ প্রবাহের ওপরও এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
একই সঙ্গে এ ধরনের প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক খরচও বেড়ে যায়। সরবরাহকারীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে কখনো কখনো তাদের ডিসক্রেপেন্সি চার্জও (এলসির শর্ত লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা বা অতিরিক্ত সেবা মাশুল) দিতে হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্সের ইউসিপি ৬০০-এর সঙ্গে প্রচলিত এই প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নিয়ে নীতিগত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ইউসিপি ৬০০ হলো ডকুমেন্টারি ক্রেডিট বা এলসি পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়মাবলি।
সংগঠনটির যুক্তি, এলসিতে কোন কোন নথি প্রয়োজন হবে, তা মূলত সংশ্লিষ্ট এলসির শর্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত করা এবং এলসির শর্ত পূরণ করা হলে, এলসিতে, আইনে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে ডেলিভারির পর অতিরিক্ত 'পার্টি অ্যাকসেপ্ট্যান্স' বা বারবার অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয়।
সিজিএএ বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রচলিত প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের সাত দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে— প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের সরাসরি ব্যাংকে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া, এলসিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে বাধ্যতামূলক পার্টি অ্যাকসেপ্ট্যান্স তুলে দেওয়া এবং ব্যাংকগুলোকে শুধু এলসির শর্ত অনুযায়ী নথি যাচাই করতে বলা।
এছাড়া নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি বা ত্রুটি থাকলে সরবরাহকারীকে তা জানানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।
সিজিএএ আরও বলেছে, শুধু অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের জন্য গার্মেন্টস কারখানায় বারবার নথি পাঠানোর প্রথা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শতভাগ প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের ব্যাক টু ব্যাক এলসির জন্য অভিন্ন, সহজ, ডিজিটাল ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
