পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৪ কোটি মানুষ, অর্ধেকই গণপরিবহনে
দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন, যার প্রায় অর্ধেকই (৪৪ শতাংশ) ঘটে গণপরিবহনে—গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (জিএটিএস) এই তথ্য তুলে ধরে সব গণপরিবহনকে শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ'র সভা কক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ আয়োজনে 'তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়' শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় সব গণপরিবহনকে শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। একইসঙ্গে বাসে বাধ্যতামূলক 'তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ' নির্দেশক চিহ্ন প্রদর্শন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিআরটিএ'কে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি জিএটিএস ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, 'বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।'
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, 'টেকসই তামাক ও ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু থাকবে।'
সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএ'র সকল কার্যালয়কে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী 'তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ' নির্দেশক চিহ্ন ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ফলে ধূমপান না করেও একই রকম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।
বক্তারা জানান, বিআরটিএ'র আওতাধীন পাবলিক পরিবহনকে শতভাগ ধূমপানমূক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেসে ও পরিবহনে তামাক ও ধূমপানে যে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে করে যাত্রী-ড্রাইভার বা হেলপার কেউ যেনো পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারে।'
পাশাপাশি, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের (সংশোধিত-২০১৩) যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং বাসের টিকেটে ধূমপান বিরোধী সচেতনতা মূলক বার্তা লিখতে হবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকে (প্রোগ্রামস), দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
